ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

কবিতা

ক্রুসেড উষ্মীভবন

মাসুদ চয়ন

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ক্রুসেড উষ্মীভবন

ক্রুসেড উষ্মীভবন
মাসুদ চয়ন

যদি একবার দাঁড়াও-
পলক ফ্যালো উদাস ভণিতায়।
যদি দেখে যাও....
দাঁড়িয়ে থাকার মৃত্যুময় মুক্তানন্দ।
আর কোনোদিন লিখবোনা ক্রুসেড উষ্মীভবন,
যদি একবার দাঁড়াও-
পিছু ফিরে চাও...
বুঝে ফ্যালো...ক্রুশবিদ্ধ নীপিড়া সঙ্গোপন...
লিখবোনা আর কোনোদিন।
তুমি বুঝে গেলে সবকিছু হয়ে যাবে ঋণ,
কে দাঁড়াবে বলো!!
কবে সেদিন!


ধর্ষিতার অগ্নিমালা
মনিকা মারইয়াম

অনন্ত ক্রোশ পার হয়ে ক্লান্ত-ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে
উড়াল দিয়েছে যারা— জাদুকরী শূন্যতার শ্মশানে
তাদের ঝলসে যাওয়া নির্মোহ স্বপ্নের পালক থেকে
খসে পড়া উজ্জ্বল অপ্রতিরোধ্য রক্তবিন্দু জানে
নক্ষত্র ভরা আকাশে ভোঁতা ব্লেটের দাগ কতোটা রুক্ষ
কতোটা অসহায় সেই গুমোট চিৎকারের অগ্নিমালা
যা আটকে থাকে অবরুদ্ধ মুখের অপরিপক্ব গহ্বরে!
নিঃশব্দতার দেয়ালে আটকে যায় সেই ভয়ংকর দৃশ্যপাত
ভেঙে যায় ক্যানভাসে সাজানো খেলা ঘরের রঙিন আয়না
ক্রমাগত হিম শীতল হয়ে আসে চেতনাশূন্য সময়ের ছায়াপথ
কিংবা পরাজিত সমাজের তুমুল বিষণ্নতা বুকে নিয়ে
আদিম ফসিলের ভেতর নিষ্পাপ ধর্ষিতার বেদনার্ত চোখ
অবিরাম যন্ত্রণা বুনে যায় মৃত ভোরের অভিশপ্ত ডায়েরিতে
সেই রক্তক্ষয়ী ভাষা অনুবাদ করার হিম্মত কোন রাষ্ট্র রাখে?


সুররিয়ালিজম
অনন্য কাওছার

যদি বলি মেট্রোরেলের মতো পৃথিবীও সরে যাচ্ছে
অন্ধকার এক পৃথিবীর দিকে, তারকারা মানুষের মতো
হেঁটে হেঁটে পার হচ্ছে একেকটা নদী পাহাড় পেভমেন্ট।
যদি বলি টাইটানিক জাহাজ আবারও সমুদ্রের জলে
ভেসে যাচ্ছে ইউরেনাসের অকল্পিত মহাবিশ্বে,
যদি বলি চাঁদের কক্ষপথে কবিদের জলের প্রতিভা
নেপচুনের অভিমুখে দার্শনিকের জটিল বিশ্লেষণ
যদি বলি তোমার করতলে সাইবেরিয়ার বৈকালিক
অস্তরাগ, গোধূলির ইন্দ্রনীল পিদিম।

যদি বলি সাঁতারু মার্লিনের মতো সমুদ্রও চলে যাচ্ছে
বহির্জগতের উপত্যকার দিকে, নদীরা ধনুকের মতো
আবারও আদিম মানুষের চোখে ফিরে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে
যদি বলি ডাইনোসরের জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে
ক্রমে ক্রমে সৃষ্টি হচ্ছে পাহাড়ের লোমহর্ষক দ্বীপ এবং
পঙ্গপালের মতো তারও ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে।
যদি বলি নীল তিমির মতো মহাকাশও হারিয়ে যাচ্ছে
প্রাগৈতিহাসিক যুগের লালনীল পাথরের ধ্বংসস্তূপে।
যদি বলি তোমাকে ছাড়া, কেবল তোমারই অবহেলায়
আটলান্টিক মহাসাগরও হয়ে যাচ্ছে আইসবার্গ,
এবং তোমার অভাবে আমার জীবনেও
                            সতেরো কোটি তিমিরপুঞ্জ।
তবে কি অবাক হবে প্রিয়তমা?


অপেক্ষায় একা বসে
এনাম রাজু

একটা পথ একাকি হেঁটে যায়, রেখে যায় পথের স্মৃতি। পথিক হারিয়ে যায়, সরে যায় বাঁক। স্বপ্ন সরে না, বেঁচে থাকে অক্ষয়Ñঅমর। স্বপ্নের ডালপালা যেন সবুজ ঘাসের মতো জেগে থাকে, আকাশে মেলে দেয় অদেখা পাখা। মেঘময়ূরী হয়ে উড়ে যায় আকাশে আকাশে। তবু তার দূরে যাওয়া হয় না কখনো। হৃদয়ের তার ছুঁয়ে সে যেনো রিনিঝিনি বাজায় বাঁশি। কার বাঁশি আজও বাজে স্বপ্নের জলছোঁয়া তীরে? কে আজও একা ডাকে বিনিদ্র রজনি ছিঁড়ে?
কে কার অপেক্ষায় একা বসে থাকে...


ফুলের আর্তনাদ
আরজাত হোসেন

বসন্ত বাতাসও আজ মৃদু নেই
কেন যেন ঝরে যায় বাগানবিলাস।
মানুষ এখন ফুলে মুগ্ধ নয়
বরং বিনষ্টে ব্যস্ত পাপড়ির সুবাস!
রাত হলে শোনা যায় ফুলের আর্তনাদ
তবে কি ফুলের মূল্য লুটাবে ধুলায়?
এ কোন বৈরী বাতাসে আজ
কত আদুরে পাপড়ি দিশাহীন প্রায়!
হে শহর, পল্লী সমাজ
কেন বুঝেও বুঝনা মৃত্যুর ভাষা?
ফুলের কাছে কোন অযাচিত ভ্রমর
কেন ভেঙে দিলে আগামীর আশা?
তবে কি ঝরেই যাবে ব্যথার নির্ঝর!
ভেসে যাবে পাপড়ির আঁচল?
জাগবে না বিবেক? বিদ্রোহ কণ্ঠস্বর?
থামবে না এই অকাল অস্তাচল?

×