
ছবি: সংগৃহীত।
চুল পড়া, চুলের ধীর বৃদ্ধি কিংবা চুলের ভঙ্গুরতা—এই সমস্যাগুলো আজকাল অনেকের কাছেই নিত্যদিনের সঙ্গী। দিনের ব্যস্ততায় আমরা যতটা না চুলের যত্ন নিতে পারি, তার চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় রাতে সঠিক কিছু অভ্যাস মেনে চললে। কারণ রাত হলো শরীর এবং ত্বকের মতো চুলেরও রিপেয়ারিং টাইম। ঘুমানোর আগে কিছু সহজ রুটিনে অভ্যস্ত হলে চুল বাড়ে দ্রুত, মজবুত হয় গোঁড়া থেকে, আর ফিরে আসে প্রাকৃতিক জৌলুস।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন সাতটি কার্যকর রাতের চুলচর্চার অভ্যাস।
১. নারকেল তেল বা কাস্টর অয়েলের হালকা মালিশ
ঘুমাতে যাওয়ার আগে নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে স্ক্যাল্পে হালকা মালিশ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে দ্রুত চুল গজাতে সাহায্য করে।
২. সিল্ক বা স্যাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার
সাধারণ কটন বালিশে ঘর্ষণের কারণে চুল ভেঙে যায় বা রুক্ষ হয়ে পড়ে। সিল্ক বা স্যাটিন কাপড় চুলের ঘর্ষণ কমিয়ে দেয়, ফলে চুল পড়ে কম ও মজবুত থাকে।
৩. আলগা বিনুনি বা পাইনঅ্যাপল হেয়ার স্টাইল
চুল খোলা রেখে ঘুমালে বেশি জট পড়ে ও ভেঙে যায়। আলগা বিনুনি বা ‘পাইনঅ্যাপল’ স্টাইল চুলের কাটা অংশে চাপ কমিয়ে চুলকে রক্ষা করে।
৪. হেয়ার সিরাম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার
একটি লাইটওয়েট হেয়ার সিরাম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করলে রাতভর চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ড্রাই ও স্প্লিট এন্ড সমস্যাও দূর হয়।
৫. চিরুনি দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ
একটি কাঠের চিরুনি দিয়ে ৫ মিনিট স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে, যা চুলের গতি ত্বরান্বিত করে।
৬. ঘুমানোর আগে পরিষ্কার চুল
বাইরের ধুলো-ময়লা ও ঘাম চুলের গোঁড়ায় জমে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তাই অন্তত দু’দিন পরপর চুল পরিষ্কার করে ঘুমানো উচিত।
৭. ঘুমের পর্যাপ্ততা ও মান বজায় রাখা
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। দিনে অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমালে হরমোন ব্যালেন্স থাকে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় থাকে।
চুলের যত্ন মানেই কেবল ব্যয়বহুল প্রোডাক্ট নয়, বরং প্রতিদিন কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনেই পাওয়া যেতে পারে স্বাস্থ্যবান, লম্বা ও ঘন চুল। উপরের রাতের রুটিনগুলো অনুসরণ করলে অল্প সময়েই চুলে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। তাই আজ থেকেই শুরু হোক রাতের চুল-সচেতনতা!
নুসরাত