ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

চুলের বৃদ্ধিতে ভিটামিন বি সমৃদ্ধ ৫টি খাবার!

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৫ এপ্রিল ২০২৫

চুলের বৃদ্ধিতে ভিটামিন বি সমৃদ্ধ ৫টি খাবার!

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঘনত্ব ধরে রাখতে শরীরের প্রয়োজন ভিটামিন বি-র সঠিক পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে, অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হয়, এমনকি চুলের উজ্জ্বলতাও হারিয়ে যেতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন বি৬ থেকে শুরু করে বায়োটিন (বি৭) ও ফলেট (বি৯)-এই উপাদানগুলো একসঙ্গে কাজ করে চুলের গঠন মজবুত রাখতে, সঠিক গতিতে বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। নিচে এমন পাঁচটি খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো, যা ভিটামিন বি-তে পরিপূর্ণ এবং চুলের যত্নে বিশেষভাবে কার্যকর।

 

ডিম
ডিমকে বলা হয় চুল বৃদ্ধির জন্য ‘সুপারফুড’। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ বায়োটিন, যা চুলের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি ভিটামিন। বায়োটিন কেরাটিন উৎপাদনে সাহায্য করে-এই কেরাটিনই চুলের মূল উপাদান। বায়োটিনের ঘাটতি হলে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি১২, যা রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে এবং এই কণিকাগুলো চুলের ফলিকলে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়।

চুলের যত্নে ডিম কেন উপকারী: ডিমের বায়োটিন চুলের গঠন মজবুত করে, চুল পড়া রোধ করে।
ভিটামিন বি১২ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।উচ্চমানের প্রোটিন চুলের কাঠামো গঠনে সাহায্য করে।

খাওয়ার উপায়: সিদ্ধ, পোচ, অমলেট কিংবা স্যালাড বা স্যান্ডউইচের উপাদান হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

 

পালং শাক
পালং শাকে আছে ফলেট (বি৯) ও ভিটামিন বি৬, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফলেট রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে, ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। ভিটামিন বি৬ ফলিকলের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়াও এতে আছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি,যা চুল পাতলা হওয়া রোধ করে এবং গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত শক্তি জোগায়।

চুলের জন্য পালং শাকের উপকারিতা: ভিটামিন বি৬ স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।ফলেট অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম চুল পড়া রোধ করে।

খাওয়ার উপায়: স্যুপ, স্মুদি, স্যালাড বা সামান্য রসুন-তেল দিয়ে ভেজে খাওয়া যেতে পারে।

মাছ (বিশেষ করে স্যামন)
স্যামনসহ ফ্যাটি ফিশগুলো ভিটামিন বি১২ ও নিয়াসিন (বি৩)-এ ভরপুর। বি১২ চুলের কোষ গঠন ও ফলিকল মজবুত করতে সাহায্য করে। নিয়াসিন স্ক্যাল্পে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং চুলকে স্বাস্থ্যবান করে তোলে। পাশাপাশি এই ধরনের মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে ও প্রদাহ কমায়।

মাছের উপকারিতা: ভিটামিন বি১২ চুলের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়ক।নিয়াসিন স্ক্যাল্পে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে।
ওমেগা-৩ প্রদাহ কমিয়ে চুলের স্বাস্থ্য বাড়ায়।

খাওয়ার উপায়: গ্রিল, বেক বা ভাজা মাছ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও সালাদ ব্যবহার করেও খাওয়া সম্ভব।

অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে আছে ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড) ও বায়োটিন (বি৭)। এই উপাদানগুলো স্ক্যাল্প ও ফলিকলের পুষ্টি জোগাতে কার্যকর। ভিটামিন বি৫ রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, আর বায়োটিন কেরাটিন উৎপাদন বাড়িয়ে চুল মজবুত করে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে, ফলে চুল ভাঙা কমে যায়।

অ্যাভোকাডোর উপকারিতা: বায়োটিন চুল পড়া রোধ করে।ভিটামিন বি৫ স্ক্যাল্প পুষ্টি জোগায়।হেলদি ফ্যাট চুলের রুক্ষতা কমায়।

খাওয়ার উপায়: টোস্টে স্প্রেড, স্মুদিতে, সালাদে অথবা অ্যাভোকাডো তেল ব্যবহার করা যেতে পারে হেয়ার মাস্ক হিসেবেও।

খাদ্যশস্য (ওটস, ব্রাউন রাইস, বার্লি)
খাদ্যশস্যে থাকে ভিটামিন বি১ (থায়ামিন), বি৩ (নিয়াসিন), এবং বি৭ (বায়োটিন)। এগুলো চুলের ফলিকলের কার্যকারিতা উন্নত করে। থায়ামিন শক্তি বিপাক বজায় রাখে, নিয়াসিন স্ক্যাল্পে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং বায়োটিন চুলকে শক্তিশালী করে তোলে।

খাদ্যশস্যের উপকারিতা: বি১ শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।বি৩ রক্ত চলাচল বাড়ায়।বি৭ চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

খাওয়ার উপায়: সকালে ওটস, দুপুরে ব্রাউন রাইস কিংবা স্যুপে বার্লি ব্যবহার করুন।

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর থেকেও পুষ্টি দেওয়া জরুরি। ভিটামিন বি সমৃদ্ধ এই পাঁচটি খাবার নিয়মিত খেলে চুল পড়া কমে, চুল ঘন ও উজ্জ্বল হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে এই উপাদানগুলো যুক্ত করে আজ থেকেই শুরু করুন স্বাস্থ্যকর ও দীপ্তিময় চুলের যাত্রা।

সূত্র:https://tinyurl.com/2p9vajsz

আফরোজা জান্নাত

×