
ছবিঃ সংগৃহীত
ইন্টারভিউয়ের সময় দৃষ্টি আকর্ষণ করে তবে মূল দক্ষতা আপনাকে কাজেই প্রমাণ করতে হয়। আর তাহলেই আপনি বাকি সবার থেকে ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে পারবেন।
১৷ যোগাযোেগ দক্ষতা
রিটেন কিংবা ভার্বাল কিংবা নন-ভার্বাল যে ধরণের কমিউনিকেশনই হোক না কেন তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনাকে কো-ওয়ার্কারদের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করবে। ভালো যোগাযোগ দক্ষতার মাধ্যমেই প্রয়োজন এবং এক্সপেক্টেশন সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব যা ডেডলাইন সম্পূর্ণ করা এবং কাজ ডেলিভারি দিতে সহায়ক হবে। আপনার যোগাযোেগ দক্ষতা থাকলে সহকর্মী মধ্যে আরও বেশি প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়, কোম্পানীর মধ্যে শৃঙ্খলা তৈরি হয়। সুতরাং অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে হলে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে হবে। সব থেকে ভালো হবে যদি বাংলা ভাষার সাথে সাথে আরও দু-একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাও শিখে নেওয়া যায়।
২। টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিল
আপনি যদি শুধু আপনার নিজের কাজ সম্পাদনেই দিন পার করেন তাহলে আপনি ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে নিজের কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি অন্যকে সহায়তা করার মানসিকতাও রাখতে হবে। শুধুমাত্র সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিলের মাধ্যমেই তা আপনি নিশ্চিত করতে পারেন।
এই সফট স্কিল আপনাকে আরও বেশি প্রোডাক্টিভ করবে এবং আপনার কাজের মানও উন্নত করবে। আপনি যদি টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিল ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে আপনি আরও বেশি দায়িত্ব নিতে পারবেন এবং সেই সাথে আপনার বর্তমান কাজের লোডও বেশি নিতে পারবেন। সুতরাং টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিলে দক্ষ হতে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে সর্বদা।
৩। প্রবলেম সলভিং স্কিল
বক্সের বাইরে সবাই ভাবতে পারে না, আর যারাই এই অসাধারণ স্কিল অর্জন করতে পারেন তারা যেকোন নতুন প্রজেক্টের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেন। যদিও এই স্কিল শেখা যায় না তবে যারা এই স্কিলের হয়ে থাকেন তারা যেকোন জটিল প্রজেক্টের বেস্ট সল্যুশন বের করতে পারেন। প্রবলেম সলভিং স্কিল সবথেকে বেশি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। সব সময় যে সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে তাও না, তবে আপনি এগিয়ে যাবেন সফল ভাবে।
৪। লিডারশীপ স্কিল
লিডারশীপ স্কিল একটি কোম্পানীর জন্য অতীব প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কারণ শুধুমাত্র শিখিয়ে একজনকে লিডার বানানো যায় না। স্কিলড পার্সন কিংবা উন্নত যোগাযোগ দক্ষতা লিডারশীপের অন্যতম দক্ষতা হলেও, লিডারশীপ স্কিলের মধ্যে আরও অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত। এক কথায় লিডারশীড স্কিল হলো সহকর্মীকে মোটিভেট করা, কখন শুনতে হয় এবং কখন রিঅ্যাক্ট করতে হয় তা জানা।
ইন্ডাস্ট্রি বা কোম্পানীভেদে লিডারশীপ স্কিলের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তবে সব জায়গায় ক্রিয়েটিভ সল্যুউশন দিতে পারে এমন বিশ্বস্ত কর্মীই লিডার হওয়ার উপযুক্ত। লিডারশীপ স্কিল গ্রো করা সত্যিই কঠিন কাজ তবে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই অর্জন করা যায় ধীরে ধীরে। সেজন্য বিভিন্ন অনলাইন কোর্সগুলাতে ভর্তি হতে পারেন।
৫। টিমওয়ার্ক
এমন কোন কাজ পাওয়া কঠিন যা টিমওয়ার্ক ছাড়া গড়ে উঠেছে। সফলতা তখনই ধরা দেয় যখন অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার মানুষ একটি কমন লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং কলাবরেশন এক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সেজন্য একটি কোম্পানী তখনই খুব ভালো করে যখন উপযুক্ত ট্যালেন্টকে সঠিক জায়গায় বসাতে পারে। ফলস্বরুপ, কো-ওয়ার্কারদের সাথে যিনি কলাবরেশন করতে পারে, সহযোগির মতো কাজ করতে পারে তিনি অতি দ্রুত ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে পারেন।
৬। প্রফেশনালিজম
কাজের ক্ষেত্রে এই শব্দটার গুরুত্ব যথেষ্ট। এর কারণে কাজের জায়গায় আপনার অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। এ জন্য কয়েকটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। উদাহরণ দেওয়া যাক। কাজের জায়গায় কিংবা মিটিং-এ দেরিতে পৌঁছানো একেবারেই নয়। এতে ধারণা হয়, আপনি কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
একই নিয়ম খাটে লাঞ্চে যাওয়ার সময়েও। খেতে গিয়ে আড্ডায় অনেক ক্ষণ কাটিয়ে দিলেন, এমনটা না করাই ভালো। বাড়িতে বা অন্য কোথাও ঝামেলার কারণে যদি মুড খারাপ হয়ে যায়, সেটা কাজের জায়গায় আনবেন না। জামাকাপড়ের দিকে নজর দিতে হবে। ফর্মাল বা ক্যাজুয়াল, সেটা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। সাধারণত উইকডেজ-এ ফর্মাল পরবেন। আর, উইকেন্ডে ক্যাজুয়াল। অনেকের অভ্যাস থাকে সহকর্মীদের সঙ্গে পরচর্চা করার। অফিসে এ সব না করাই ভালো।
৭। পিপল স্কিলস
কাজের ক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে কেমনভাবে লোকের সঙ্গে মিশছেন, সেটাই অন্যের কাছে আপনার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে দেয়। আপনার ব্যবহার, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, এই সব কিছুই কিন্তু একজন সফল মানুষ হতে খুব প্রয়োজন।
অধিকাংশ মানুষেরই লক্ষ্য থাকে, যেখানে কাজ করছে, সেখানে এক সময় সে নেতৃত্ব দেওয়ার স্তরে পৌঁছবে। এই লিডারশিপ স্কিল তৈরি করতে হলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যেমন, দলের মধ্যে একটা মত প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে রাজি করানো একটা বড় ব্যাপার। তার জন্য নিজের চিন্তা এবং অনুভূতিকে ঠিকমত প্রকাশ করতে জানতে হয়। সবাইকে উৎসাহ দিয়ে বুঝিয়ে রাজি করানো এবং নিজের দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে অন্যের আস্থা অর্জন করাটাও একটা জরুরি শিক্ষা। টিমওয়ার্ক মানে কিন্তু একটা টিমকে দিয়ে কতটা কাজ করানো গেল তা নয়, একটা টিম নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে কতটা কাজ করল, সেটাই আসল।
মুমু