
ছবি: সংগৃহীত
নিজের যত্ন নেওয়া কেন জরুরি এমন প্রশ্ন আসলে যে বিষয়টি উঠে আসে সেটি হলো,
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই নিজেদের চেয়ে অন্যদের প্রাধান্য দিই। কিন্তু এই অভ্যাস আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণা বলছে, সঠিকভাবে নিজেকে যত্ন নিলে মানসিক চাপ কমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। তাই নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি অত্যন্ত জরুরি।
নিজেকে যত্ন নেওয়ার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন অপরিহার্য। অনেকেই মনে করেন, নিয়ম মানা মানে স্বাধীনতা হারানো, কিন্তু বাস্তবে এটি আমাদের মানসিক চাপ কমায় ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করে। নিত্যদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই আমাদের স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করতে পারে।
নিজের যত্নে আত্মশৃঙ্খলা বজায় রাখার ৫টি নিয়ম:
১. শারীরিক যত্নের মূলনীতি
সুস্থ জীবনের ভিত্তি হলো শারীরিক সুস্থতা। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, প্রতিদিন শরীরচর্চা করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো উচিত।
২. অন্যদের সঙ্গে সুস্থ সীমারেখা তৈরি
অন্যদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজেকে অবহেলা করা উচিত নয়। আমাদের উচিত স্পষ্টভাবে বলা যে, কোন কাজ বা আচরণ আমরা মেনে নেব না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করাও মানসিক শান্তির জন্য সহায়ক।
৩. মানসিক ও আবেগগত যত্ন
নিয়মিত মেডিটেশন, লেখালেখি, বা নিরিবিলি সময় কাটানোর মতো অভ্যাস আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেয়। এছাড়া, নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে নিজেকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
৪. ব্যক্তিগত সেলফ-কেয়ার সিস্টেম তৈরি
নিজের জীবনযাত্রা পর্যালোচনা করে কোথায় পরিবর্তন আনা দরকার তা বোঝা জরুরি। এটি শুধু একটি ভাবনা নয়, বরং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা উচিত। দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে তা সুফল বয়ে আনে।
৫. সাধারণ বাধাগুলো অতিক্রম করা
নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই অপরাধবোধে ভোগেন। মনে রাখতে হবে, নিজেকে যত্ন না নিলে অন্যদেরও ঠিকভাবে সাহায্য করা সম্ভব নয়। এছাড়া, যারা সবসময় আমাদের ওপর নির্ভর করে, তারা প্রথমে পরিবর্তন মেনে নিতে চাইবে না। কিন্তু স্থির সিদ্ধান্ত ও ধৈর্যের মাধ্যমে এই বাধাগুলো দূর করা সম্ভব
নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী সুখ ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। সেলফ-ডিসিপ্লিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সেলফ-কেয়ারকে সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে। তাই আজ থেকেই নিজেকে সময় দিন, সুস্থ জীবন উপভোগ করুন।
মেহেদী হাসান