ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন, সাফল্য অনিবার্য

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৬:১৮, ৩ এপ্রিল ২০২৫

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন, সাফল্য অনিবার্য

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং অবিরাম মনোযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ২০২৫ সালে আত্মনিয়ন্ত্রণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফলতার ক্ষেত্রে আইকিউ-এর চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি কার্যকর। তবে অনেকেই এটি রপ্ত করতে ব্যর্থ হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মনিয়ন্ত্রণ কোনো সহজাত ক্ষমতা নয়; এটি একটি অর্জিত দক্ষতা, যা অভ্যাস ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব।

কেন আত্মনিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ?

মানুষের ইচ্ছাশক্তি সীমিত এবং দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ টিকে থাকার শক্তি জোগায়। দুর্বল আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলে মানুষ দেরি করা, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, যারা আত্মনিয়ন্ত্রিত, তারা তাৎক্ষণিক স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নিজেদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হয়।

আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল

বিশেষজ্ঞরা ক্ষুদ্র পদক্ষেপের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। "মাইক্রো-কমিটমেন্ট পদ্ধতি" অনুসারে, ছোট ছোট এবং সহজেই অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত, যা ধাপে ধাপে আত্মনিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো "ইফ-দেন পরিকল্পনা", যেখানে নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার সাথে কোনো ভালো অভ্যাস সংযুক্ত করা হয়। যেমন—"সকাল ৭টায় আমি মেডিটেশন করব" বা "সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে ইচ্ছে হলে আমি তিনবার গভীর শ্বাস নেব।"

মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

কষ্ট বা অস্বস্তিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে, এটিকে মানসিক শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই আত্মনিয়ন্ত্রিত মানুষের বৈশিষ্ট্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, "আমি চেষ্টা করছি" বলার পরিবর্তে "আমি একজন নিয়মিত ব্যায়ামকারী" বলার মাধ্যমে নিজের পরিচয় নির্ধারণ করা উচিত, কারণ আত্মপরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করাই সহজতর হয়ে যায়।

অনুপ্রেরণার পরিবর্তে কার্যকর পদ্ধতির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেবল লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না; সেটি বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। যেমন, ওজন কমানোর লক্ষ্যে শুধু পরিকল্পনা করলেই চলবে না, বরং প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করা একটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, আত্মনিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করতে পারিপার্শ্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার, যেমন—অন্যের সামনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া, অভ্যাস-ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করা বা কাউকে সহযোগী হিসেবে নেওয়া।

বর্তমান যুগের অনবরত বিভ্রান্তি ও তাৎক্ষণিক তৃপ্তির মাঝে আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। ক্ষুদ্র কিন্তু ধারাবাহিক অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এবং ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তনের সাহায্যে মানুষ আলস্য ও দেরির অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সফলতা অর্জন করতে পারে।

 

সূত্র: https://www.newtraderu.com/2025/04/01/how-to-discipline-yourself-stop-being-soft-2025-2/

আবীর

×