
ছবি: সংগৃহীত
আমরা সকলেই সুখী থাকতে চাই, কিন্তু অজান্তেই কিছু অভ্যাস আমাদের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুল সিদ্ধান্ত, মানসিক চাপ এবং নেতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনের সুখ-শান্তিকে ধীরে ধীরে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অভ্যাস অজান্তেই আমাদের মনকে ভারী করে তোলে, যা আমাদের সুখের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
যে অভ্যাসগুলো আপনার সুখ কেড়ে নিচ্ছে
১. অতিরিক্ত চিন্তা করা
সবকিছুকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। অপ্রয়োজনীয় চিন্তা শুধু মানসিক চাপ বাড়ায়, সমাধান এনে দেয় না।
২. অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করা
নিজের সুখ যদি অন্যের প্রশংসা ও স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। নিজের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে।
৩. ক্ষোভ ও অভিমান পুষে রাখা
অতীতের রাগ, অভিমান কিংবা দুঃখ ধরে রাখলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। এগুলো ভুলে গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শান্তির চাবিকাঠি।
৪. অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সফলতা দেখে হতাশ হওয়া বা নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। প্রত্যেকের জীবনযাত্রা ভিন্ন, তাই নিজের যাত্রাকে উপভোগ করাই শ্রেয়।
৫. নেতিবাচক চিন্তা করা
নিজের প্রতি কঠোর হওয়া, নেতিবাচক চিন্তা লালন করা, এবং নিজেকে দোষারোপ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলেই সুখের অনুভূতি বাড়বে।
৬. পরিবর্তনকে ভয় পাওয়া
জীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবর্তন আসবেই। পরিবর্তন মানে নতুন সুযোগ, নতুন সম্ভাবনা। যদি পরিবর্তনকে ভয় পাই, তবে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।
৭. সবার মন জয় করার চেষ্টা করা
সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করা আমাদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
৮. অতীত নিয়ে পরে থাকা
পুরনো ভুল, কষ্ট বা ব্যর্থতার স্মৃতিতে আটকে থাকলে বর্তমানের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব নয়। জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৯. নিজের যত্ন না নেওয়া
নিজের প্রতি যত্নশীল না হলে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে এবং সুস্থ জীবনযাত্রা অনুসরণ না করলে, আমাদের মন ও শরীর দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১০. নেতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে থাকা
যারা সব সময় হতাশাবাদী কথা বলে, সমালোচনা করে এবং নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে, তাদের সংস্পর্শ আমাদের আনন্দ কেড়ে নেয়।
১১. সব সময় খারাপ কিছু ঘটবে ভেবে নেওয়া
যদি সব সময় খারাপ কিছুর আশঙ্কায় ভুগি, তবে ভালো মুহূর্তগুলোকেও আমরা উপভোগ করতে পারব না। ইতিবাচক মনোভাব সুখের অন্যতম মূল চাবিকাঠি।
১২. গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে রাখা
প্রয়োজনীয় কাজগুলো এড়িয়ে গেলে মানসিক চাপ বাড়ে। সময়মতো কাজ শেষ করলে আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তি দুটোই বজায় থাকে।
১৩. কৃতজ্ঞ না থাকা
আমাদের যা নেই, সেটার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কৃতজ্ঞতাবোধ সুখের অনুভূতি বাড়ায় এবং জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।
সুখী থাকার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুখী হতে হলে এসব অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিবাচক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা ও মানসিক প্রশান্তি অর্জন করলেই প্রকৃত সুখের স্বাদ পাওয়া সম্ভব। জীবনকে সহজভাবে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই সুখী থাকার আসল রহস্য।
কানন