ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১

বয়স ৫০-এ সাফল্যের ৫ চাবিকাঠি যা আপনাকে জানতেই হবে!

প্রকাশিত: ০৫:০১, ২১ মার্চ ২০২৫; আপডেট: ২১:১৫, ২১ মার্চ ২০২৫

বয়স ৫০-এ সাফল্যের ৫ চাবিকাঠি যা আপনাকে জানতেই হবে!

ছবিঃ সংগৃহীত

আমি সবসময় কল্পনা করেছি, ৫০ বছরে পৌঁছে যদি নিজেকে সত্যিকারভাবে সন্তুষ্ট অনুভব করতে চাই, তাহলে কী কী দরকার? এমন একটি জীবন, যা আমার নিজস্বতা প্রকাশ করে, শক্ত বন্ধনযুক্ত বন্ধুত্ব এবং এক ধরণের উদ্দেশ্যবোধ।

সম্ভবত এটি আমার শৈশবের পরিবেশ থেকে এসেছে, যেখানে আত্ম-অনুসন্ধান ছিল খুব সাধারণ বিষয়। আমার বাবা-মা সবসময় খাবার টেবিলে জিজ্ঞেস করতেন, "তুমি সত্যিই কেমন আছো?"—এই ধরনের খোলামেলা আলোচনাগুলো আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।

এখন আমি ৩০-এর কোঠায়, এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কৌতূহলী যে, মাঝ বয়সে কী সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যস্ত জীবনযাপনে কখনও কখনও আমরা গভীর আকাঙ্ক্ষাগুলো ভুলে যাই।

নিচে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য দেওয়া হলো, যা যদি আপনি ৫০-এর মধ্যে অর্জন করতে পারেন, তবে বলা যায়, আপনি সত্যিই জীবনে জয়ী হয়েছেন।

১. আপনি আপনার মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন যাপন করছেন

আমার অভিজ্ঞতা বলছে, সত্যিকারের আত্মতৃপ্তি শুধুমাত্র বাহ্যিক অর্জন থেকে আসে না। অনেক মানুষ উচ্চ পদ, মোটা বেতন, কিংবা বিলাসবহুল গাড়ির পেছনে ছুটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খালি অনুভব করেন। অন্যদিকে, যারা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন, তারা দীর্ঘস্থায়ী সুখ লাভ করেন।

আমার এক বন্ধু কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে একটি কমিউনিটি গার্ডেন প্রকল্প শুরু করেন। তার জীবনের মূল দর্শন ছিল টেকসই উন্নয়ন ও মানব সংযোগ। অনেকে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, কিন্তু এখন তিনি সত্যিকার অর্থে সুখী।

৫০ বছরে যদি আপনি বলতে পারেন, "আমি এমন একটি জীবন গড়েছি যা আমার নীতি ও আদর্শের প্রতিফলন", তাহলে আপনি এমন এক মূল্যবান সম্পদ পেয়েছেন যা টাকা দিয়ে মাপা যায় না।

২. আপনি অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করেছেন

আমি বিভিন্ন জায়গায় থেকেছি—ডাবলিনে, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছি—এবং উপলব্ধি করেছি, সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন কিন্তু অমূল্য।

৫০ বছর বয়সে, এমন কিছু মানুষ থাকা জরুরি যারা আপনার জীবনের আনন্দ ও দুঃখের অংশীদার হবে। সম্পর্কের সংখ্যা নয়, গুণগত মানই গুরুত্বপূর্ণ

একসময় আমি ভাবতাম, নেটওয়ার্কিং মানেই কেবল পেশাদার সংযোগ, কিন্তু পরে বুঝেছি আসল সম্পর্ক তৈরি হয় পারস্পরিক আস্থা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে

আমি যখন উপলব্ধি করলাম যে, ভয় ও প্রত্যাখ্যানের শঙ্কা আমার সম্পর্ককে দুর্বল করে দিচ্ছে, তখন আমি "Free Your Mind" কোর্সে ভর্তি হই। এটি আমাকে নিজের ভেতরের বাধাগুলো ভাঙতে সাহায্য করে এবং আমি আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছি।

যদি ৫০-এ পৌঁছে আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারেন—ভুলত্রুটি, অভ্যাস, দুর্বলতাসহ—তাহলে আপনি সত্যিকারের সম্পর্কের স্বাদ পেয়েছেন

৩. আপনি আজীবন শেখার মানসিকতা বজায় রেখেছেন

আমি একটু শেখার নেশায় আসক্ত! নতুন কোনো দক্ষতা শেখার সুযোগ পেলেই লুফে নিই—তা হোক কুকিং, নতুন ভাষা, বা ডিজিটাল মার্কেটিং

৫০ বছর বয়সে যদি আপনি নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন, তবে আপনি সত্যিই ভালো অবস্থানে আছেন।

শেখা মানে শুধু ডিগ্রি নেওয়া নয়। এটি হতে পারে, গিটার শেখা, নতুন রান্নার কৌশল রপ্ত করা, কিংবা মনোযোগী হওয়ার অভ্যাস তৈরি করা

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে—বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষেত্র যেখানে নিয়মিত নতুন ট্রেন্ড আসছে। তাই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নতুন জ্ঞান অর্জনের মানসিকতা ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

যদি আপনি ৫০-এ পৌঁছে নতুন কিছু শেখার কৌতূহল হারিয়ে না ফেলেন, তাহলে আপনি জীবনে উন্নতির পথে রয়েছেন।

৪. আপনি সুস্থতার (Well-being) সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন

শারীরিক সুস্থতা মানেই শুধু জিমে যাওয়া নয়। এটি মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।

আমি মাইন্ডফুলনেস চর্চা শুরু করার পর উপলব্ধি করেছি, আমার শরীর ও মন কী চাইছে সেটি বোঝা খুবই জরুরি।

কখনও কখনও এটি মানে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুম। আবার কখনও মানে নিজেকে কিছুটা অবসর দেওয়া, পছন্দের বই পড়া, বা শুধুই আরাম করা

একজন ব্যক্তি প্রকৃত সুস্থ তখনই, যখন তিনি নিজের শরীর, মন, এবং আবেগের প্রতি সম্মান দেখান। যদি আপনি সুস্থতার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন, তাহলে এটি জীবনে বুদ্ধিমানের পরিচায়ক

৫. আপনি এমন একটি উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন যা আপনাকে পথ দেখায়

ছোটবেলায় ভাবতাম, “উদ্দেশ্য” মানেই বিশাল কিছু করা বা বিশ্ব বদলে দেওয়া। কিন্তু পরে বুঝেছি, এটি নিজের চারপাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মধ্যেই নিহিত

কেউ হয়তো যুবকদের পরামর্শ দিয়ে আনন্দ পান, কেউ হয়তো স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে মানসিক শান্তি পান

আমার ক্ষেত্রে, মনস্তত্ত্ব ও আত্মউন্নয়ন নিয়ে লেখা আমার উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে এটি ছিল শুধু স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপ পরিচালনা করা, যা পরে ফ্রিল্যান্স লেখা এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরির দিকে নিয়ে যায়।

যদি ৫০-এ পৌঁছে আপনি বুঝতে পারেন, কোনো একটি কাজ আপনাকে ভেতর থেকে চালিত করে, তাহলে সেটিই আপনার উদ্দেশ্য। এটি সরাসরি নাও আসতে পারে, তবে ধাপে ধাপে নিজেকে জানার মধ্য দিয়ে এটি বিকশিত হয়

উপসংহার

আপনি যদি এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে বেশিরভাগ অর্জন করে থাকেন, তাহলে নিজেকে উদযাপন করুন

জীবনে সফলতা শুধু বড় বাড়ি, ভালো চাকরি, বা সামাজিক স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি নির্ভর করে আপনার মূল্যবোধ, সম্পর্ক, শেখার মানসিকতা, সুস্থতা, এবং জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার ওপর

তবে ৫০-এর জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব এবং ছোট ছোট পরিবর্তন বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব আনতে পারে।

সূত্রঃ https://dmnews.com/ain-if-you-have-achieved-these-5-things-by-50-then-youre-winning-at-life/

ইমরান

×