
ছবি:সংগৃহীত
শিশুর স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করে দেখেছেন যে, ঘুমের সময় মস্তিষ্কে যেসব পরিবর্তন ঘটে তা শিশুর শিখন এবং স্মৃতিশক্তির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঘুমের বিশেষ কিছু ধাপ রয়েছে, যেগুলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্মৃতির সংরক্ষণে সাহায্য করে।
REM (Rapid Eye Movement) ঘুম: এই ধাপে মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, এবং স্মৃতি সংরক্ষণ, পুনঃপ্রস্তুতি, এবং নতুন শেখার সাথে সম্পর্কিত সক্রিয়তা ঘটে। REM ঘুম শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্মৃতির স্থায়িত্ব এবং মস্তিষ্কের শক্তি পুনর্গঠন করে।
Non-REM ঘুম (NREM): এই ধাপে শরীর এবং মস্তিষ্ক আরও গভীরভাবে বিশ্রাম নেয়, এবং প্রাথমিকভাবে শরীরের শারীরিক পুনর্গঠন ঘটে। এই ধাপে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি এবং জ্ঞান সংরক্ষণের জন্য মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশুদের জন্য গাঢ় ঘুমের ধাপ (যেমন, NREM) তাদের শেখা বিষয়গুলির স্মৃতির দৃঢ়তা এবং সংরক্ষণের জন্য সহায়ক।
শিশুদের জন্য সঠিক ঘুমের সময়
গবেষণায় দেখা গেছে, যে সময় শিশুরা গভীর ঘুমে থাকে, তখন তাদের মস্তিষ্ক নতুন শিখন এবং স্মৃতির পুনর্গঠন বেশি কার্যকর হয়। শিশুর বয়স এবং তার ঘুমের চাহিদা অনুযায়ী ঘুমের সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে:
নবজাতক (০-২ মাস): ১৪-১৭ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
শিশু (৩-১২ মাস): ১২-১৫ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
শিশু (১-৫ বছর): ১০-۱۴ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
যত বেশি গভীর ঘুম, তত বেশি মস্তিষ্কের পুনর্গঠন এবং স্মৃতির শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
ঘুমের সময় স্মৃতির বৃদ্ধি:
গবেষণাগুলি আরও দেখায় যে, যখন শিশুরা দিনের শেষে পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুমায়, তখন তারা সেদিন শিখা বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে মনে রাখতে পারে। এছাড়া, পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্নায়ুবিক বিকাশের জন্যও খুবই প্রয়োজনীয়।
দ্রুত স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য:
রাতের গভীর ঘুম সবচেয়ে কার্যকর। এটি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাতে ঘুমানোর সময় শিশুর মস্তিষ্ক নতুন শেখা তথ্যকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত করে।
দিনের ঘুমের সময়ও স্মৃতির বৃদ্ধির জন্য সাহায্যকারী হতে পারে, তবে গভীর রাতের ঘুমের মতো কার্যকর নয়।
স্মৃতিশক্তির জন্য ঘুমের সময় এবং শেখা:
শিশুদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো যখন তারা নতুন কিছু শিখছে এবং পরে সে সময় যদি তারা গভীর ঘুমে চলে যায়, তা হলে সেই শেখা বিষয়ের স্মৃতি আরও মজবুত হয়। যেমন, শিশুরা যখন স্কুলে বা বাড়িতে নতুন কিছু শিখছে এবং তারপর গভীর রাতে ঘুমায়, তখন তাদের শেখা বিষয়টি স্মৃতিতে আরও দৃঢ় হয়ে যায়।
ঘুমের সময় এবং ঘুমের ধাপ শিশুদের স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গভীর ঘুম, বিশেষত রাতের ঘুম, শিশুর শিখন প্রক্রিয়া এবং স্মৃতির সংরক্ষণে সহায়ক। শিশুরা যখন পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুমায়, তখন তাদের মস্তিষ্ক শেখা তথ্যগুলো প্রসেস এবং সংরক্ষণ করে, যা তাদের স্মৃতিশক্তি দ্রুত বৃদ্ধি করতে সহায়ক।
মুহাম্মদ ওমর ফারুক