ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

যদিও তারা প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়, ৮টি লক্ষণ যা প্রমাণ করে কেউ নিম্নমানের মানুষ

প্রকাশিত: ০২:৪৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ০২:৪৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

যদিও তারা প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়, ৮টি লক্ষণ যা প্রমাণ করে কেউ নিম্নমানের মানুষ

ছবি : সংগৃহীত

অনেক মানুষ প্রথম দেখায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর মনে হতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী, রসিক বা ক্যারিশম্যাটিক হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তারা প্রকৃতপক্ষে ভালো মানুষ।

একজন নিম্নমানের মানুষ হলো সেই ব্যক্তি, যিনি নৈতিকতা ও সততার অভাব রাখেন, অন্যদের খারাপ ব্যবহার করেন এবং সবসময় নিজের স্বার্থকেই সবার আগে রাখেন। কিন্তু বিষয়টি জটিল হয়ে যায় যখন এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তারা তাদের ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন।

তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকার জন্য কিছু লক্ষণ জানা জরুরি। এখানে এমন ৮টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যা দেখলে বুঝতে পারবেন যে কেউ প্রকৃতপক্ষে নিম্নমানের মানুষ, যদিও তারা প্রথমে আকর্ষণীয় বলে মনে হতে পারে।

১) তারা শুধু তখনই ভালো ব্যবহার করে, যখন তাদের কিছু দরকার

অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণ পরিবর্তন করেন। তারা তখনই মিষ্টি কথা বলেন, প্রশংসা করেন এবং যত্নশীল হন, যখন এতে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকে।

তাদের আসল চরিত্র বোঝার সহজ উপায় হলো— যখন তাদের কোনো স্বার্থ নেই, তখন তারা কেমন আচরণ করে? তারা কি তখনো অন্যদের সম্মান ও সদয় ব্যবহার করে, নাকি উপেক্ষা বা দুর্ব্যবহার করে?

একজন নিম্নমানের ব্যক্তি সম্পর্ককে কেবল লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেখে। যারা তাদের কোনো কাজে আসে না, তাদের প্রতি তারা দয়া বা সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজনও মনে করে না।

২) তারা কখনোই নিজের ভুল স্বীকার করে না

নিম্নমানের মানুষ কখনোই নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে না। সবসময় তাদের কাছে অজুহাত প্রস্তুত থাকে।

দেরিতে আসার জন্য তারা ট্রাফিককে দোষারোপ করবে, জন্মদিন ভুলে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যস্ততাকে দেখাবে, আর যদি তারা কারও অনুভূতিতে আঘাত দেয়, তবে সেটাকে অন্যের অতিসংবেদনশীলতা বলে চালিয়ে দেবে।

এ ধরনের মানুষ নিজেদের দোষ স্বীকার করার পরিবর্তে সবসময় দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়, গ্যাসলাইটিং করে বা নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে। এমন কারও সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা খুবই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।

৩) তারা পেছনে অন্যদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলে

গসিপ বা পরচর্চা নির্দোষ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বিশ্বাসের সম্পর্ককে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা কাউকে অন্যের সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে শুনি, তখন অবচেতনভাবে সেই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো আমরা তাদের সাথেই সম্পৃক্ত করি।

নিম্নমানের ব্যক্তি সামনে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও, পেছনে সেই ব্যক্তির নামে কুৎসা রটাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। এবং মনে রাখতে হবে—যদি তারা অন্যদের সম্পর্কে এমন কথা বলে, তবে একদিন ঠিকই আপনার সম্পর্কেও বলবে।

৪) তারা অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়

একজন ভালো মানুষ সবসময় অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হয়। তারা বন্ধুর নতুন চাকরি, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত অর্জনে উৎসাহ দেয়।

কিন্তু নিম্নমানের ব্যক্তিরা অন্যের সাফল্যকে হুমকি হিসেবে দেখে। তারা অভিনন্দন জানানোর পরিবর্তে বিদ্রূপ করে, গুরুত্ব কমিয়ে দেখায় বা কথার মোড় ঘুরিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে যায়।

এই ধরনের ঈর্ষাকাতরতা সাধারণত আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে আসে। নিজের উন্নতির জন্য পরিশ্রম করার পরিবর্তে, তারা অন্যদের নিচে নামানোর চেষ্টা করে।

৫) তারা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়

একজন ভালো মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো— অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা। জীবন এমনিতেই কঠিন, সেখানে যারা অন্যের কষ্টকে অবহেলা বা উপহাস করে, তারা কখনোই ভালো বন্ধু বা সঙ্গী হতে পারে না।

নিম্নমানের ব্যক্তি কখনোই অন্যের দুঃখ বা সমস্যাকে গুরুত্ব দেয় না। বরং তারা এগুলো উপেক্ষা করে, মজা করে বা হাস্যকর মনে করে। এমন ব্যক্তিরা কখনোই কঠিন সময়ে আপনার পাশে থাকবে না।

৬) তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং বিশ্বাস ভাঙে

নিম্নমানের মানুষ বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। তারা কথা দেয়, কিন্তু সময় এলে সবসময় কোনো না কোনো অজুহাত দেখায়।

এই ধরনের আচরণ ধীরে ধীরে বিশ্বাসের ভিত দুর্বল করে দেয়। ফলে আপনি আর কারও ওপর নির্ভর করতে পারেন না, সবসময় বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে হয়। কিন্তু প্রকৃত সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব এভাবে টেকে না।

৭) তাদের জীবনে সবসময় কোনো না কোনো নাটক (ড্রামা) থাকে

কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন যেন সবসময় বিশৃঙ্খলায় ভরা। কোথাও না কোথাও তারা ঝগড়া বা সমস্যা তৈরি করেই রাখেন।

নিম্নমানের ব্যক্তি ঝগড়া উসকে দেয়, মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় এবং ছোটখাটো সমস্যাকে বড় করে তোলে। শান্ত পরিবেশ তাদের জন্য বিরক্তিকর মনে হয়, তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

এ ধরনের মানুষের সঙ্গে থাকাটা খুবই ক্লান্তিকর এবং মানসিকভাবে বিষাক্ত হতে পারে। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে এদের থেকে দূরে থাকা ভালো।

৮) তারা আপনাকে খারাপ অনুভূতি দেয়

একজন ভালো বন্ধু বা সঙ্গী এমন হওয়া উচিত, যার সঙ্গে সময় কাটালে আপনি ভালো অনুভব করবেন।

কিন্তু নিম্নমানের ব্যক্তি সবসময় আপনাকে ক্লান্ত, অনিরাপদ ও অপ্রয়োজনীয় মনে করায়। তারা হয়তো "সৎ কথা বলছি" বলে আপনাকে অপমান করবে, আপনার অনুভূতিকে তুচ্ছ করে দেখাবে বা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা করবে।

এমন কারও সঙ্গে থাকলে যদি আপনি নিজেকে খারাপ অনুভব করেন, তবে সেটি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

সিদ্ধান্ত: মানুষ যা দেখায়, সেটাই বিশ্বাস করুন

আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের মোহে পড়ে যাওয়া সহজ, কিন্তু সবসময় মনে রাখা উচিত যে, আচরণই আসল সত্যকে প্রকাশ করে।

একজন মানুষ হয়তো একবার ভুল করতে পারে, কিন্তু যদি বারবার একই ধরনের নেতিবাচক আচরণ দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি তাদের প্রকৃত স্বভাব।

কবি মায়া অ্যাঞ্জেলো একবার বলেছিলেন—
“যখন কেউ আপনাকে দেখায় তারা আসলে কেমন, তখন প্রথমবারেই বিশ্বাস করুন।”

অতএব, ভুল মানুষের জন্য অজুহাত তৈরি না করে, আপনার অভিজ্ঞতার ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং এমন মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন, যারা সত্যিই আপনার জীবনে মূল্য যোগ করে।

মো. মহিউদ্দিন

×