
নারীর ক্ষমতায়ন বারবার উচ্চারিত এক বলিষ্ঠ প্রত্যয়। যা পরিবার থেকে পুরো সামাজিক আঙিনায় বিস্তৃত, বহুল আলোচিতও বটে। মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যে সর্বমানুষের অধিকারই শুধু নয় প্রাসঙ্গিক পাওনাও বিবেচিত বিষয়। সেখানে সমসংখ্যক নারীর অবস্থা কি সেটাও তথ্য-উপাত্তে বিশ্লেষণ করে বিভিন্নভাবে তাদের আলোকিত করার কথা ভাবা হয়েছে। যা বর্তমান সময়েরও এক অবধারিত পর্যায়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন দেশ গঠন প্রক্রিয়ায় নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাজির করছে। যা কি না সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রত্যয়টি জটিল এবং সমাজ কাঠামোর ভিন্নমাত্রার কার্যক্রম। ক্ষমতায়ন বিষয়টা অধিকার এবং প্রাপ্যতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। আমার যা অধিকার এবং ন্যায্যতা তা কতখানি সমাজ দিতে পারে? সমাজ একটি বৃহৎ সামাজিক বলয়। যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারা সন্নিবেশিত এবং জোটবদ্ধভাবে সামাজিক মানুষের ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে সবার আগে পরিবার। পরবর্তী পদক্ষেপে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, লিঙ্গ সমতায় সমঅধিকার অর্জন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন সর্ববিষয় আবারও নজর কেড়েছে অন্তর্বর্র্তীকালীন বর্তমান সরকারের। বৈষম্যবিরোধী সমাজ গঠন প্রক্রিয়ায় যে নতুন বাংলাদেশের নবঅভ্যুত্থান সেখানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে চিরস্থায়ী নারী-পুরুষের অসমতা। ফলে কিছু প্রকল্প ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার যা নারী সমাজের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসবে। বিশেষ করে গ্রামনির্ভর বাংলাদেশে সিংহভাগ নারীর বসবাস প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যারা শিক্ষায় অনগ্রসর, স্বাস্থ্য সচেতনায় পিছিয়ে পড়া, রাজনৈতিকবোধ-বুদ্ধি যাদের শূন্যের কোঠায়। সে সব চ্যালেঞ্জিং এবং অতি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আঙিনায় নারীদের ক্ষমতায়নকে সামনে এনে প্রয়োগকেও তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ অবহেলিত নারীদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা বর্তমান বিশেষ প্রকল্পের সর্বপ্রধান কর্মযোগ, পুরো সামাজিক আঙিনায় নারীর ক্ষমতায়ন অত সহজও নয়। যেখানে সিংহভাগ নারীই বোঝে না তাদের অধিকারের মাত্রা কতখানি কি মাত্রায় স্বাধীনতা অর্জন করলে তার যথার্থ মৌলিক ক্ষমতা নিশ্চিত হয়। সে সব স্পর্শকাতর জায়গায় নারীদের নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ করে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে নতুন প্রকল্পে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংঘ যৌথভাবে এমন যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে যাতে নারীরা তাদের অধিকার সচেতনতা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। সেখানে সবার আগে সেই পুরানো জরাজীর্ণ, নির্মম, বিধি বাল্যবিয়েকে স্থান দেওয়া হয় সবার ওপরে। অর্থাৎ বালিকাদের বিয়ের পিঁড়ি নয় বিদ্যালয়ে পাঠানোই জরুরি। শুধু ভর্তি নয় বিদ্যালয়ে নিত্য উপস্থিত থাকাও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা। যা পরিবার থেকেই শুরু করা বাঞ্ছনীয়। সেখানে প্রকল্পের অধীনে বিচার্য হয়েছে কিশোরী ছাত্রীদের সাইকেল দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর উৎসাহিত করা সময়ের ন্যায্যতা। নতুন এমন নারীবান্ধব প্রকল্পে দেশের কয়েকটি জেলা শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, পাবনা, হবিগঞ্জ, ভোলা, গাইবান্ধা ও শেরপুরে যথার্থ কর্মপ্রকল্প শুরু করা হচ্ছে। যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের রূপরেখায় এগিয়ে থাকবে। অর্থাৎ তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে প্রান্তিক নারীদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যও থাকছে এমন নারী ঘনিষ্ঠ মহাপ্রকল্পে। সাইকেলে চড়ে যখন কোনো কিশোরী বিদ্যালয়ে যাবে তখন তার মধ্যে আত্মবিশ^াস, স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তি, অধিকার চেতনা যা ক্ষমতায়নের জন্য নিতান্ত জরুরি তাও অন্তরনিঃসৃতবোধে জেগে ওঠাই শুধু নয় জিইয়েও থাকবে হৃদয়ের নিভৃতে। তা ছাড়া নানামাত্রিক সুযোগ-সুবিধা অবারিত করার সদিচ্ছাও প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে যেতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নারীদের আরও দক্ষ ও উপযুক্ত করার কর্মপ্রবাহ সুনিশ্চিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নারী শক্তির অবধারিত ক্ষমতায়নে তাদের শুধু শিক্ষাই জরুরি নয় বরং পেশাগত অবস্থানও নজর কাড়া হওয়া সময়ের অপরিহার্যতা। তার কর্মজগতে আয় রোজগার বাড়ানোর বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকেও নারীদের হাতের কাছে নিয়ে আসতে হবে। নিজের সচেতন উদ্যোগই অনেক বেশি জরুরি। পাশাপাশি চারদিকের সচ্ছল, নির্মল পরিবেশ ও কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।
অপরাজিতা প্রতিবেদক