ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৯ ফাল্গুন ১৪৩১

ডায়েট করেও ওজন কমছে না? জেনে নিন আপনার অজানা ভুলগুলো!

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ডায়েট করেও ওজন কমছে না? জেনে নিন আপনার অজানা ভুলগুলো!

কিছু মানুষ সবসময়ই ডায়েট করেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল কখনও পান না। তারা ক্যালরি কমান, নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলেন, তবুও ওজন যেন এক জায়গায় আটকে থাকে।ওজন কমানো শুধুমাত্র কম খাওয়ার ব্যাপার নয়। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস আপনার অজান্তেই বাধা সৃষ্টি করতে পারে।


যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়েট করেও ফল না পান, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। নিচে কিছু সাধারণ অভ্যাস দেওয়া হলো, যা হয়তো আপনাকেও পিছিয়ে দিচ্ছে আপনার অজান্তেই।


১) সবসময় "স্বাস্থ্যকর" খাবার খাওয়া
অনেকেই মনে করেন, শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই ওজন কমবে। কিন্তু অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর খাবারও ওজন বাড়াতে পারে।
বাদাম, অ্যাভোকাডো, শস্যজাতীয় খাবার ও স্মুদি সবই পুষ্টিকর হলেও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত। পরিমাণ ঠিক না থাকলে সহজেই ক্যালরি বেড়ে যায়।
আরেকটি ভুল ধারণা হলো লেবেলের ওপর অতি বিশ্বাস। "অর্গানিক", "লো-ফ্যাট" বা "হাই-প্রোটিন" লেখা মানেই তা ওজন কমানোর জন্য উপযোগী নয়। এসব খাবারে লুকানো চিনি ও সংযোজন থাকতে পারে, যা আপনার অগ্রগতিকে ধীর করে দেয়।
সুতরাং, স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও পরিমাণ ও মোট ক্যালরির ব্যাপারে সচেতন থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।


২) পরিমাণ সঠিকভাবে না মাপা
অনেকেই খাবারের পরিমাণ আন্দাজ করে নেন, যা প্রায়ই ভুল হয়ে যায়।এক চামচ চিনাবাদাম মাখন? হয়তো দুই চামচ হয়ে যাচ্ছে! এক প্লেট পাস্তা? আসলে দ্বিগুণ খেয়ে ফেলছেন!এই ছোট ভুলগুলো ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে। খাবারের সঠিক পরিমাণ মেপে খেলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কোথায় ভুল হচ্ছিল।


৩) তরল ক্যালরি খেয়ে ফেলা
খাবারের দিকে মনোযোগ দিলেও, পানীয়র দিক থেকে অনেকে অসচেতন থাকেন।এক গ্লাস কমলার রস বা সুগন্ধিযুক্ত কফিতে থাকতে পারে সোডার সমান পরিমাণ চিনি।
ভিটামিন ওয়াটার, স্মুদি কিংবা কফি সবকিছুই লুকানো ক্যালরির উৎস হতে পারে। আর এগুলো চিবানোর প্রয়োজন না হওয়ায়, মস্তিষ্ক এগুলোকে খাবারের মতো গণ্য করে না।সুগারযুক্ত পানীয় এড়িয়ে, জল, ব্ল্যাক কফি বা হারবাল টি পান করলে ওজন কমানোর পথ সহজ হয়।


৪) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
ঘুম সরাসরি ওজন কমানোর সাথে যুক্ত।পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, শরীর ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন বেশি উৎপন্ন করে এবং পূর্ণতার সংকেত দেওয়া হরমোন (লেপ্টিন) কমিয়ে দেয়।ফলে সারাদিন ক্ষুধা বাড়তে থাকে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, আর ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যায়।
সুতরাং, ভালো ঘুম নিশ্চিত করা মানেই আপনার শরীরের মেটাবলিজমকে স্বাভাবিক রাখা।


৫) অতিরিক্ত কঠোর হওয়া
অনেকেই "সব নয়তো কিছুই না" মানসিকতায় থাকেন।একদিনের খারাপ ডায়েটকে ব্যর্থতা মনে করেন, আর পুরো সপ্তাহ নষ্ট করে ফেলেন।
কিন্তু পারফেকশন জরুরি নয়,নিয়মিততার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ছোট ছোট সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তন আনে।নিজের ওপর খুব বেশি কঠোর না হয়ে, ভুলগুলোকে সংশোধনের চেষ্টা করাই উত্তম।


৬) অতিরিক্ত কম খাওয়া
অনেকেই মনে করেন, যত কম খাবেন, তত দ্রুত ওজন কমবে।কিন্তু বেশি ক্যালরি কমালে শরীর "সার্ভাইভাল মোড"-এ চলে যায় এবং বিপাকীয় হার কমিয়ে দেয়। ফলে ওজন কমার বদলে স্থবির হয়ে যায়।আর অতিরিক্ত কম খেলে, একসময় প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগে এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
সঠিক পরিমাণ খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে, আর ওজন কমানোর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়।


৭) বেশি ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করা
অনেকে মনে করেন, ব্যায়াম করলেই যা খুশি খাওয়া যাবে।কিন্তু বাস্তবে, এক ঘণ্টার ব্যায়ামে কয়েকশো ক্যালরি পোড়ে, যা সহজেই দু'টি স্ন্যাক্স খেলে ফিরে আসে।
অনেকে ব্যায়ামের পর বেশি ক্ষুধা অনুভব করেন এবং বেশি খেয়ে ফেলেন।ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি ব্যায়ামের চেয়ে খাদ্যাভ্যাসে লুকিয়ে আছে। সঠিক খাবার নির্বাচন করলেই সফলতা পাওয়া সহজ হয়।


৮) ধৈর্য হারিয়ে ফেলা
ওজন কমানো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।সপ্তাহখানেকের মধ্যে ফলাফল না পেলে অনেকেই হতাশ হয়ে নতুন ডায়েট চেষ্টা করেন, যা ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করে।কিন্তু টেকসই ওজন কমানোর জন্য ধৈর্য ও নিয়মিত অভ্যাসের বিকল্প নেই।সফলতার চাবিকাঠি পারফেকশন নয়-ধারাবাহিকতা।


ছোট ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন আসে।ওজন কমানো শুধুমাত্র ডায়েট বা ব্যায়ামের বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসই মূল পার্থক্য গড়ে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য অভ্যাস পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।সুতরাং, কঠোর নিয়মের চেয়ে সচেতনতা এবং ধৈর্যই সঠিক ফলাফল আনতে পারে।বড় পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শুধু ছোট ছোট ইতিবাচক সিদ্ধান্ত!


সূত্র:https://tinyurl.com/yazm63e3

আফরোজা

×