জামদানি নিয়ে আজকাল অনেকেই অনেক কিছু করছে। এত এত ফিউশন করতে গিয়ে প্রায়ই জামদানির যে মূল আবেদন বা আকর্ষণ সেটাই হারিয়ে যাচ্ছে। বিবির সিন্দুক ও গুংঃবৎরড়ঁং গধাঁব দুটো অনলাইন বিজনেস প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে যুক্ত হয়ে কোলাবোরেশনে তৈরি করল জামদানি প্যাচওয়ার্ক ফিউশন। বর্তমানে তাদের এই উদ্যোগে তারা তৈরি করেছে- জামদানি প্যাচওয়ার্ক স্টল, বলাকা সিল্কে জামদানি প্যাচওয়ার্ক, ডেনিমে জামদানি এ্যান্ড প্যাচওয়ার্ক ফিউশন।
প্যাচওয়ার্ক: প্যাচওয়ার্ক হলো বস্ত্রশিল্পের একটি প্রাচীন কৌশল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের ছোট ছোট টুকরো একত্র করে নকশা তৈরি করা হয়। বিশ্বজুড়ে এটি দীর্ঘদিন ধরে কুইল্ট, ওয়াল হ্যাংগিং এবং পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু প্রয়োজনীয়তার সীমা অতিক্রম করে ফ্যাশন ও শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ কারিগররা বহু বছর ধরে পুরনো কাপড় পুনর্ব্যবহার করে নকশিকাঁথা ও প্যাচওয়ার্ক তৈরি করে আসছেন। বর্তমানে এই কৌশলকে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে মিলিয়ে জামদানি, তাঁতের কাপড় ও বাটিকের সমন্বয়ে নতুন নতুন ফিউশন পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। স্কার্ফ, শাড়ি, কুর্তি ও হোম ডেকরের সামগ্রীকে প্যাচওয়ার্কের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশন জগতে নতুনত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যেখানে পুরনো ও নতুনের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে জামদানি প্যাচওয়ার্ক ফিউশন। এটি কেবল নান্দনিকতার দিক থেকে নয়, বরং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
টেকসই ফ্যাশন: এই ফিউশনের মূল লক্ষ্য রিসাইকেলিং। যেখানে পুরনো বা ব্যবহৃত জামদানি কাপড়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়। ক্রেতারা চাইলে তাদের পুরনো জামদানি শাড়িকে প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে নতুন রূপ দিতে পারেন। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ নতুন জামদানির সঙ্গেও প্যাচওয়ার্কের সমন্বয়ে ইউনিক ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব।
সেমি বলাকা সিল্কের সঙ্গে জামদানি ফেব্রিকের টুকরো সংযোজন করে, পাড় ও আঁচলে প্যাচওয়ার্ক বসিয়ে পুরনো জামদানিকে নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব, যা বিদ্যমান পোশাকের আয়ুষ্কাল বাড়াবে এবং বর্জ্য কমাবে। একইভাবে, ডেনিমের সঙ্গে জামদানি ও প্যাচওয়ার্ক ফিউশন তৈরি করে ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব।
এই উদ্যোগ শুধু ফ্যাশন জগতেই নয়, বরং কারিগরদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া, রিসাইকেলিং-এর ফলে পোশাকশিল্পের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো সম্ভব, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ফিউশনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশী ক্রেতারা হাতে তৈরি, টেকসই এবং ইউনিক ফ্যাশন পণ্যের প্রতি আগ্রহী, যা বাংলাদেশের জামদানি প্যাচওয়ার্ক ফিউশনকে বৈশ্বিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে শক্তিশালী অবস্থান দিতে পারে।