ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

যত পড়বেন প্রস্তুতি ততই ভালো হবে

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ৪ এপ্রিল ২০২৫

যত পড়বেন প্রস্তুতি ততই ভালো হবে

মো. আনিসুর রহমান

মো. আনিসুর রহমান বিসিএস নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তৃতীয় বর্ষ থেকে। বন্ধুদের প্রিলিমিনারির জন্য পড়তে দেখে আগ্রহ ও ভালো লাগা তৈরি হয়। বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছো বলে উৎসাহ দেন। পরবর্তীতে বিশ^বিদ্যালয়ের বড় ভাইদের কাছ থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা নিয়ে বই কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

মূলত ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি সার্কুলার হওয়ার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মাস্টার্সে পড়ার সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুজন বড় ভাই রুমমেট ছিলেন। তাদের একজন ৩৪তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আনিসুরের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সেই থেকেই শুরু।

কিন্তু ৩৬-৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারির গ-ি পেরুতে পারেননি। ৩৮তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলেও নন-ক্যাডার আসে। অবশেষে ৪০তম বিসিএসে এসে সফলতার দেখা পেলেন। মো. আনিসুর রহমান ৪০তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামে। সরকারি যদুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং উত্তরা সায়েন্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

আনিসুর বলেন, ‘আমার সব সময়ের অনুপ্রেরণা আমার বাবা, মা এবং স্ত্রী। তারা আমার খারাপ সময়ে পাশে থেকেছেন। পাশাপাশি সাহস জুগিয়েছেন। তাদের কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’
নতুনদের বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির পরামর্শ হিসেবে আনিসুর বলেন, ‘নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে সর্বোচ্চ সময় পড়াশোনার টেবিলে কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিসিএস হচ্ছে ধৈর্য আর পরিশ্রমের ফল। ধৈর্য ধরে সঠিকভাবে নিয়মিত পড়াশোনা করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৮-১২ ঘণ্টা পড়তেই হবে এমনটা নয়। তবে ধৈর্য ধরে যত বেশি সময় নিয়ে পড়বেন, প্রস্তুতি ততই ধারালো হবে।

গণিত, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণ জ্ঞান নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই। তবে গুরুত্ব কম দেওয়া যাবে না, আবার বেশিও দেওয়া যাবে না। নিয়মিত গণিত চর্চা করতে হবে। গণিত আর ইংরেজিতে খারাপ করলে প্রিলিমিনারি পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রিলিমিনারির পর আপনার যদি মনে হয় আমি পাস করতে পারি, তাহলে কাট মার্ক নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে লিখিত প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন। গণিত, ইংরেজি আর বিজ্ঞান বেশি গুরুত্ব বহন করে।

নিয়মিত গণিত চর্চার পাশাপাশি ইংরেজি পত্রিকা পড়তে পারেন ট্রান্সলেশন অংশে ভালো করার জন্য। এছাড়া বাংলা দৈনিক পত্রিকা থেকে বিভিন্ন ডাটা ও ইনফরমেশন সংগ্রহ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পেতে হলে গৎবাঁধা না লিখে তথ্যমূলক লিখলে বেশি নাম্বার আসবে।’ 
মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে আনিসুর অভিব্যক্তি- মৌখিক হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেকেই নার্ভাস হয়ে পড়েন বলে জানা জিনিসগুলো বলতে পারে না। কিংবা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। ভালোমতো পড়াশোনা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, নিজ জেলা, নিজ বিষয় আর সরকারের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে যেতে হবে।

মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করতে হলে মক ভাইভা দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারেন। তাদের ২-৩ জনকে পিএসসি যেভাবে ভাইভা নেয় ওইভাবে ডেমো ভাইভা দিলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’
আনিসুর একজন ভালো মানুষ ও দেশপ্রেমিক হতে চান। দেশের মানুষকে কৃষি বিষয়ক যে সেবা দেওয়ার ব্রত নিয়ে চাকরিতে জয়েন করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে চান। কৃষক ও কৃষিবিদ একত্রিত হয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি বিষয়ক অন্যান্য বিষয়ে অবদান রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সফল হোক আনিসুরের এই পথচলা।
চাকরি বাজার ডেস্ক

×