ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৪ চৈত্র ১৪৩১

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ২১ মার্চ ২০২৫

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে

স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন মোহাইমিনুল ইসলাম। একাগ্রচিত্তে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করার আগে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো নিয়ে কয়েকদিন ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন। এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে তার একটি ধারণা হয়। এরপর সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। মোহাইমিনুল ২০১০ সালে শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর ২০১২-১৩ সেশনে বুয়েটে ভর্তি হয়ে বেছে নেন পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগ। বাবা মোসলেম উদ্দিন আহমেদ জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর মা আলপনা বেগম গৃহিণী।
শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল, পাস করে একটা চাকরিতে ঢুকে পড়বেন, পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নেবেন। সেভাবেই নিজেকে তৈরি করেছিলেন তিনি। শুরু থেকেই পররাষ্ট্র ক্যাডার তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল।
মোহাইমিনুল ৪০তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রথম হয়েছেন। তিনি জানান, ‘লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর আশা ছিল ভালো রেজাল্ট আসবে। তবু যখন ফলাফল দেখলাম, বিশ্বাস হচ্ছিল না। প্রথম যে হবো তখন চিন্তাই করিনি। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দ আসলেই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’ গ্র্যাজুয়েশনের পর ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে গিয়ে বুঝেন বর্তমানে অন্যান্য চাকরির চেয়ে বিসিএস সবচেয়ে ভালো। তখন থেকেই বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিসিএসের সিলেবাসে বিভিন্ন বিষয় থাকায় প্রথমে কাজটি একটু কঠিন মনে হয়েছিল মোহাইমিনুলের। কোন অংশ পড়বেন, কোন অংশ বাদ দেবেন, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। এরপর বিসিএসের সিলেবাস বাদ দিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। ব্যসিক জানার জন্য বাজারের বইয়ের তুলনায় বোর্ড বইগুলো বেশি ফলো করেন তিনি। এমসিকিউর জন্য বাজারের বই থেকে প্রচুর অনুশীলন করেছেন। প্রিলিতে এমসিকিউ আত্মবিশ^াসের সঙ্গে দাগানোর চেষ্টা করেছেন। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক ভালো পড়েও লেখা যায়, আবার অল্প পড়েও লেখা যায়। কিন্তু এই অল্প জানা থেকে ভালো নম্বর তোলা যায় না। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাজারের বই বাদে ইন্টারনেটের সহযোগিতা নিয়েছেন। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কলাম ফলো করেছেন। লিখিত পরীক্ষায় প্রত্যেকটা বিষয় একটু আলাদাভাবে খাতায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। মোহাইমিনুল জানান, ‘মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না। এখানে পরীক্ষার্থীর গোছানো লুক ও কথা বলার ধরন লক্ষ্য করা হয়। পাশাপাশি ক্যাডার পছন্দ, পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ- বিষয়গুলো আগে থেকেই জেনে গেছি। স্যারদের প্রশ্নের উত্তর ভিন্নভাবে গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
নতুনদের উদ্দেশ্যে মোহাইমিনুল বলেন, ‘প্রথমেই প্রিলির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিসিএসের সিলেবাস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। যে কোনো বিষয়ের ব্যসিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। ব্যসিক জানা থাকলে যে কোনোভাবে প্রশ্ন আসলে দেওয়া যায়। ব্যসিকের জানার জন্য বোর্ড বই, ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা ও নিয়মিত পত্রিকা পড়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত এমসিকিউ অনুশীলন করতে হবে। এতে প্রশ্ন সম্পর্কে ও সময় বন্টন নিয়ে ভালো ধারণা হয়।’
মোহাইমিনুলের মতে, বিসিএস লিখিতের সঙ্গে প্রিলির যথেষ্ট মিল রয়েছে। লিখিতের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সবাই পরিচিত থাকে। কিন্তু খাতায় লেখার ক্ষেত্রে কোয়ালিটিফুল লেখা জরুরি। লিখিতের টপিক দেখে অনেকেই কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকায় সহজ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এখানে এসএসসি বা এইচএসসির মতো লিখলে ভালো মার্ক পাওয়া যাবে না। লেখার প্রেজেন্টেশন, খাতার স্কিল ও টাইম ম্যানেজমেন্ট মাথায় রাখতে হবে। লেখায় ডাটা বা তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। পত্রিকার প্রবন্ধ ও কলাম পড়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি গণিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।
বিসিএস জার্নিতে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকে অসংখ্য বিসিএস রিলেটেড গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার আপডেট, নোট, বিভিন্ন তথ্য ও দিকনির্দেশনামূলক লেখাপড়া হয়। গ্রুপগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বিভিন্ন উপদেশমূলক ও দরকারি তথ্য নিয়ে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন মোহাইমিনুল। একজন পররাষ্ট্র ক্যাডার হিসেবে নিজের দেশকে যেভাবে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে নিজের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়, সেই চেষ্টায়ই থাকবেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সবার দোয়া নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান মোহাইমিনুল।
চাকরি বাজার ডেস্ক

×