
ছবি: সংগৃহীত
বরফে ঢাকা উত্তর মেরুতে চলছে এক নীরব যুদ্ধ। যুদ্ধের রূপ বদলে গেছে, গোলাগুলির বদলে এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে প্রযুক্তি আর শক্তির। নতুন এই লড়াইয়ের মঞ্চ — আর্কটিক। আর এই শীতল যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নতুন দৌড় — পারমাণবিক আইস ব্রেকার তৈরির প্রতিযোগিতা।
মার্চের শেষ সপ্তাহে রাশিয়ার মুরমানস্কে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আর্কটিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দেন, রাশিয়া আরও আধুনিক ও শক্তিশালী নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার নির্মাণ করবে। তিনি দাবি করেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক আইস ব্রেকার বহর রাশিয়ারই” এবং এই বহরে আরও আধুনিক জাহাজ যুক্ত করার সময় এখনই।
এই ঘোষণার কিছুদিন পরই রাশিয়া তাদের চতুর্থ নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার "ইয়াকুশিয়া" সমুদ্রে নামিয়ে দেয়। ২০১৩ সাল থেকে নির্মাণাধীন এই জাহাজ তিন মিটার পুরু বরফ ভেঙে পথ তৈরি করতে সক্ষম। এর দুইটি নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর একত্রে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এর আগেই "আর্টিকা", "সাইবেরিয়া" এবং "উরাল" নামের আরও তিনটি জাহাজ কার্যক্রম শুরু করেছে।
রাশিয়ার এই প্রকল্প এখানেই শেষ নয়। একই সিরিজে মোট সাতটি জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে "সুখতকা" ও "কামচাটকা" নির্মাণাধীন, আর "সাখালিন"-এর জন্য শিগগিরই কিল বসানো হবে। সবগুলো জাহাজই তৈরি হচ্ছে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিখ্যাত বাল্টিক শিপইয়ার্ডে, রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসআটম-এর অর্থায়নে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব জাহাজে ব্যবহৃত ৯২ শতাংশ যন্ত্রাংশ এখন রাশিয়ার নিজস্ব উৎপাদন।
বর্তমানে রাশিয়ার আটমফ্লট বিভাগ পরিচালনা করছে নয়টি নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার, যা বরফে ঢাকা আর্কটিক রুটে সারা বছর নৌযান চলাচল নিশ্চিত করছে। এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে — তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার আর ইউরোপ-এশিয়ার বিকল্প বাণিজ্যপথ হিসেবে নর্দার্ন সি রুট হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই পিছিয়ে। বর্তমানে তাদের নিজস্ব কোনো নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার নেই। এমনকি প্রচলিত আইস ব্রেকার ব্যবস্থাও দুর্বল ও সীমিত। যদিও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তবে সেটি এখনও কেবল পরিকল্পনার স্তরেই রয়ে গেছে।
যেখানে রাশিয়া পরমাণু শক্তির জাহাজ নামাচ্ছে সমুদ্রে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এখনো আঁকছে তার নকশা। বরফে আচ্ছাদিত এই উত্তরের মঞ্চে রাশিয়ার আগ্রাসী অগ্রযাত্রা আর শক্তি প্রদর্শনে হতভম্ব আমেরিকা এখন শুধুই দর্শক।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/sT_-1y85iSE?si=fyJJU7t63Sobd1KV
এম.কে.