ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

ইয়েমেন থেকে ফিলিস্তিন, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৫ এপ্রিল ২০২৫

ইয়েমেন থেকে ফিলিস্তিন, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যের বার্তা। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেসকিয়ান এবং ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহদী আল মাসাতের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে উঠে এসেছে একটি শক্তিশালী বার্তা—মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো বহিরাগত শক্তি তাদের দমাতে পারবে না।

দুই নেতা তাদের আলোচনায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, যদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে তারা বিদেশি আগ্রাসন ও নির্যাতন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। এই বার্তা বহুদিন ধরে মুসলিম বিশ্বের মধ্য থেকে উঠে আসা ঐক্যের আহ্বানকে নতুন করে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভক্ত মুসলিম দেশগুলো প্রায়ই বহিরাগত হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসনের শিকার হয়। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হলে, এসব দেশ কেবল নিজেদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইয়েমেনের ওপর মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছে। এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। ইয়েমেন আজ আর শুধু অভ্যন্তরীণ সংকটের কেন্দ্র নয়—এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক সংঘর্ষক্ষেত্র।

একইভাবে, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইয়েমেনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান মুসলিম বিশ্বে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতিফলন ঘটায়। দেশগুলো আজ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে।

মাহদী আল মাসাত এবং মাসউদ পেজেসকিয়ান বিশ্বাস করেন, ইসলামিক দেশগুলো যদি তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে এক হয়, তাহলে তারা উপনিবেশিক শক্তি এবং আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে যেতে পারবে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনাগুলোও গাজার পক্ষে একটি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি কেবল ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে একটি স্পষ্ট অবস্থান।

মাহদী আল মাসাত এক মন্তব্যে বলেন, "বিশ্ব যেভাবে ইয়েমেনের পরিস্থিতি দেখছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন।" তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অনেক সময় ইয়েমেনের বাস্তব অবস্থা ভুলভাবে উপস্থাপন করে, যা দেশটির জনগণের প্রকৃত সংকট ও দুর্ভোগ আড়াল করে।

এই প্রেক্ষাপটে পেজেসকিয়ান ও মাসাতের কথোপকথন ইসলামী ঐক্য, প্রতিরোধ এবং সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। তারা মনে করেন, যদি মুসলিম দেশগুলো তাদের সাধারণ মূল্যবোধ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক হয়, তাহলে তারা শুধু শোষণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যায়, মর্যাদা ও শান্তির পথেও অগ্রসর হতে পারবে।

এই লড়াই শুধু অস্ত্রের নয়— এটি একটি তথ্য ও চেতনার যুদ্ধ, যেখানে মিডিয়া এবং বৈদেশিক চাপের বিরুদ্ধে সঠিক বার্তা ছড়িয়ে দেয়াও এক ধরণের প্রতিরোধ। মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ—ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করার।

ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/JohWyJ52c6c?si=3oWxDsPFp8pvxMyl

এম.কে.

×