
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক কৌশল জোরদার করতে একের পর এক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ, ইরানকে মোকাবিলা করতে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা আসার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানবিরোধী তৎপরতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে পরমাণু কর্মসূচি জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়, তবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথেই হাঁটবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে ছয়টি পরমাণু বোমা তৈরির মতো যথেষ্ট পরিমাণ পরিশোধিত ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর, ইরানকে ঘিরে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশও এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। রাশিয়া স্পষ্টভাবে ইরানের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি হোয়াইট হাউসকে সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকায় ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০টি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বাহিনীটির এরোস্পেস কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদে বলেন, “আমেরিকার ঘাঁটিগুলো কাঁচের ঘরের মতো, যারা কাঁচের ঘরে বাস করে, তাদের পাথর ছোড়া উচিত নয়।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপে অন্তত ছয়টি স্টিলথ প্রযুক্তির বি-টু মডেলের বোমারু বিমান মোতায়ন করা হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রবহন সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী তার সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় না আসে, তাহলে তেহরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/zFZ8MrQfYRs?si=52xczTq7QJlopoEy
এম.কে.