
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না উপসাগরীয় দেশগুলো। সৌদি আরব, কাতার, আমিরাত ও কুয়েত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনভাবেই ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে না। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এসব দেশে জ্বালানি পর্যন্ত নিতে পারবে না। আমেরিকার বিপক্ষে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তে চরম বিস্ময়ের শিকার হয়েছে খোদ ওয়াশিংটন।
ইরানের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটি গেড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা। এখন কী করবে ওয়াশিংটন? আরব মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় পিছিয়ে আসবে কি আমেরিকা? উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তা ও সমর্থন হারিয়ে এখন বিকল্প পথে ইরানে হামলার পায়তারা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত মহাসাগরের দ্বীপ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় নজর দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এই দ্বীপে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে B-2 বোমারু বিমান। পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম বিমানগুলোর অবস্থান ধরা পড়েছে স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে। সেখানে দেখা গেছে, ইতোমধ্যেই তিনটি B-2 বিমান সেখানে অবস্থান নিয়েছে।
ইরাকে হামলার সময়ও দিয়েগো গার্সিয়ার এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল আমেরিকা। ইরানে আক্রমণের জন্য এবার এখান থেকেই হয়তো উড়ানো হবে মার্কিন বিমানবহর।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি, আমিরাতসহ আরবদের কাছ থেকে যেমন সহযোগিতা পেয়েছে, ইরানের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হবে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। এমনকি হামলার পর উদ্ধার অভিযানের জন্যও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন যুদ্ধে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল ইরান।
ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এমনিতেই বিপদে আছে পশ্চিমারা। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য এক বড় হুমকি। তেহরানের সঙ্গে একাধিক আঞ্চলিক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরো বাড়াচ্ছে জটিলতা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে হামলা চালালে ভয়ানক প্রতিরোধের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।
ইমরান