
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চীনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর, দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত স্বার্থকে উপেক্ষিত করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, "চীন দৃঢ়ভাবে এই শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।"
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে আগের ২০ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি নতুন করে আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়াবে ৫৪ শতাংশ, যা নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ঘোষিত ৬০ শতাংশ শুল্কের কাছাকাছি।
নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তি শুল্ক আরোপ করা হবে, যার মধ্যে চীনা পণ্যও অন্তর্ভুক্ত। এই বাড়তি 'সম্পূরক শুল্ক' ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
এছাড়া, ট্রাম্প 'ডি মিনিমিস' নীতির আওতায় শুল্কমুক্ত স্বল্পমূল্যের পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে চীন ও হংকং থেকে স্বল্পমূল্যের পণ্য শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় চীন তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। এই চুক্তি অনুসারে, চীনের ২০২২ সালের মধ্যে ২০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে চীন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়।
শুল্ক সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৭ সালে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর আগে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে চীন বিকল্প বাজারগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে অন্য কোনো দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। চীনের উৎপাদকরা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যা তাদের বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র: রয়টার্স
সায়মা ইসলাম