
ছবি: সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। খবর আল-জাজিরার।
গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে দৃশ্যত উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার হাঙ্গেরি সফরে গিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তবে আইসিসির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হাঙ্গেরি। এজন্য দেশটির সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে আইসিসি। সংস্থাটির মুখপাত্র ফাদি এল আবদাল্লাহ বলেন, আইসিসির আইনি সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কোনো সদস্য রাষ্ট্র একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
এল আবদাল্লাহ আরও বলেন, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক। তার ভাষায়, ‘আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কিত যেকোনো বিরোধ আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে’। এরপরই আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল হাঙ্গেরি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের চিফ অফ স্টাফ গের্গেলি গুলিয়াস বৃহস্পতিবার তার এক ফেসবুকে পোস্টে বলেন, হাঙ্গেরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সরকার সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুসারে বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
সাধারণত জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে কোনো রাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার এক বছর পর প্রত্যাহার কার্যকর হয়। এখন পর্যন্ত কেবল বুরুন্ডি ও ফিলিপাইন আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। হাঙ্গেরির ঘোষণার বিষয়ে আইসিসি এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান দীর্ঘদিন ধরে ইইউ-বিরোধী অবস্থান, বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দমননীতির কারণে সমালোচিত হয়ে আসছেন। এমনকি তিনি গত বছরের নভেম্বরে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নেতানিয়াহুকে তার দেশে আমন্ত্রণও জানান।
সূত্র: আল-জাজিরা
সায়মা ইসলাম