
ছবিঃ সংগৃহীত
এশিয়ার শেয়ার বাজার এবং মার্কিন ফিউচার মার্কেটগুলি বৃহস্পতিবার বড় ধরনের পতন দেখেছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন যে এর ফলে বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-র ফিউচার ২.৯% কমে গেছে, এবং ডাও জোন্সের ফিউচার ২.২% পড়ে গেছে, যা মার্কিন বাজারে আরও বড় পতনের ইঙ্গিত দেয়।
এশিয়ার বাজারে, টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রাথমিকভাবে ৪% পড়ে গিয়েছিল, তবে পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩.৪% কমে ৩৪,৪৯৮.৩১-এ নেমে এসেছে। বিশেষ করে, জাপানের বড় ব্যাংক এবং অটোমেকারদের শেয়ারগুলির দাম বড় ধরনের পতন দেখেছে। মিতসুবিশি এবং মিজুহো ফাইনান্সিয়াল গ্রুপের শেয়ারগুলি ৮%-এর বেশি পড়ে গেছে।
এছাড়া, সোনি এবং টয়োটার শেয়ারও কমে গেছে, এবং জাপানের ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে, যেখানে ডলার ১৪৯.২৮ ইয়েন থেকে ১৪৭.০৪ ইয়েনে নেমে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়াতেও ২৫% শুল্ক বৃদ্ধির কারণে কসপি সূচক ১.১% পড়ে ২,৪৭৮.৪৯-এ চলে গেছে।
বিশেষত চীনের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এর ফলে চীনের উপর মোট শুল্কের বোঝা ৬৪% হয়ে গেছে। তবে চীন আশা করছে, তারা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও অর্থনৈতিক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবে।
অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলিতে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। থাইল্যান্ডের রপ্তানি ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন স্টক মার্কেটে বুধবারও কিছুটা অস্থিরতা ছিল, যেখানে শেয়ারগুলি ওঠানামা করেছে, তবে দিনের শেষে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ০.৭% বাড়ে, ডাও ০.৬% এবং নাসডাক ০.৯% বৃদ্ধি পায়।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ অস্থির, এবং ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে বাজারের ভবিষ্যত নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তার শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও ন্যায্য করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে অনেকেই মনে করেন যে এই পদক্ষেপগুলি বিশ্বের অন্যান্য অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মার্কিন বাজার বন্ধ হওয়ার পর, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি বিশ্বের সব দেশের জন্য ১০% বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশের জন্য শুল্ক বাড়াবেন। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর চাপ পড়বে।
এছাড়া, ট্রেজারি বন্ডের ফলনও ওঠানামা করছে, যা অর্থনীতির ভবিষ্যত সম্পর্কে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
তেলের দামও কিছুটা কমেছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড ১.৮৩ ডলার কমে ৭৩.১২ ডলার প্রতি ব্যারেল হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বব্যাপী বাজারে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, এবং সবাই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তথ্যসূত্রঃhttps://apnews.com/article/stocks-markets-rates-tariffs-52dbb020a4c41122e31669c2da236d67
মারিয়া