ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

মার্কিন উৎপাদন বনাম বিশ্ব অর্থনীতি! ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা!

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ০৮:৫০, ৩ এপ্রিল ২০২৫

মার্কিন উৎপাদন বনাম বিশ্ব অর্থনীতি! ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা!

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০% শুল্ক বসানো হবে। শুধু তাই নয়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে, তাদের ওপরও নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে।

আমাদের দেশকে লুট করা হয়েছে! ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেন থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প একেবারে সরাসরি বলে দেন, "আমাদের দেশকে বছরের পর বছর ধরে লুটপাট করা হয়েছে। অন্য দেশগুলো আমাদের অর্থনীতি থেকে সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু আমরা এর বদলে কিছুই পাইনি!"

তার দাবি, এই শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং দেশীয় কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তাই তিনি "অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা" ঘোষণা করে আমদানি পণ্যের ওপর ১০% সাধারণ কর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


নতুন শুল্ক বসানোর ফলে সাধারণ মার্কিন জনগণের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাসা-বাড়ি, গাড়ি, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যা সবচেয়ে বেশি ভোগাবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বাজারে পণ্যের দামও বেড়ে যায়, যা ভোক্তাদের জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

ট্রাম্প যা বলেছেন, সেটাই করবেন! বিশ্লেষকদের মত
ট্রাম্প বলছেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকানরা প্রতারিত হয়েছে। কিন্তু এবার আর তা হবে না। নতুন শুল্কনীতি শত শত বিলিয়ন ডলার আয় করবে এবং বাণিজ্যে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনবে।"

বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করবেন, যার ফলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, "ট্রাম্প নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকই, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।"

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ, শেয়ারবাজারে ধস
ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত, এই নীতি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের বাণিজ্য বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ওলু সোনোলা বলেন, "এই শুল্ক হার যদি দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে, তাহলে অনেক দেশ মন্দার কবলে পড়তে পারে।"


ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, মার্কিন পণ্যের ওপর ২৬ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক বসানো হবে। এর মধ্যে আমেরিকান বারবন হুইস্কি অন্যতম, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, কানাডা ও মেক্সিকোও প্রতিশোধমূলক শুল্ক বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


চীন এখনো অপেক্ষাকৃত সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "সংরক্ষণবাদ কোনো সমাধান নয়, এবং বাণিজ্য যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই।"তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন হয়তো তৎক্ষণাৎ বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে পারে।


ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক দল।কংগ্রেস সদস্য সুজান ডেলবেন বলেন, "এটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। ট্রাম্প যা করছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় কর বাড়ানো উচিত নয়।"

তবে রিপাবলিকানদের একাংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, "শুরুতে কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি আমেরিকানদের জন্য ভালো হবে।"


বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।


সূত্র:https://tinyurl.com/2rfy67c2

আফরোজা

×