ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ছাত্রের বাবার সাথে পরকীয়া, শিক্ষিকা নিজেই ফাঁস করতে চান ভিডিও!

প্রকাশিত: ২১:২৮, ২ এপ্রিল ২০২৫

ছাত্রের বাবার সাথে পরকীয়া, শিক্ষিকা নিজেই ফাঁস করতে চান ভিডিও!

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উঠল ছাত্রের বাবাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ। পরকীয়ার ঘনিষ্ঠ ভিডিয়ো ফাঁসের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ছেলেকে স্কুল ছাড়িয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যক্তির কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন শিক্ষিকার সহকর্মীরাও। মরিয়া হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ও তাঁর দুই সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

জানা গেছে, ঘনিষ্ঠ ভিডিয়ো ফাঁসের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সি শ্রীদেবী রুদাগিকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযুক্ত পেশায় শিক্ষিকা। তাঁকে সহায়তার অভিযোগে তাঁর দুই সহকর্মী গণেশ কালে এবং সাগরকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী ব্যক্তির থেকে মোট চার লাখ টাকা একাই নিয়েছেন শ্রীদেবী।

পুলিশ সূত্র জানায়, পেশায় ব্যবসায়ী সতীশ (নাম পরিবর্তিত) ছেলের স্কুল শিক্ষিকা শ্রীদেবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ২০২৩ সাল থেকে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত নিজের কাছে রেকর্ড করে রেখেছিলেন শ্রীদেবী। চলতি বছরের শুরুতে ওই শিক্ষিকা সতীশের কাছে ১৫ লাখ টাকা চান। সেই টাকা না দিয়ে ফোন ধরা বন্ধ করে দেওয়ায় সরাসরি সতীশের বাড়িতে হানা দেয় শ্রীদেবী। তখনকার মতো ৫০ হাজার টাকা দেন ওই ব্যক্তি।

সেই শুরু, তার পর দফায় দফায় বাড়ে টাকার ডিমান্ড, অভিযোগ সতীশের। একদিকে ব্ল্যাকমেল ও অন্যদিকে, ব্যবসায় মন্দার জোড়া সাঁড়াশি চাপে শহর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই ব্যবসায়ী। বেঙ্গালুরু ছেড়ে গুজরাটে নতুন ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই মতো পরিবারকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন সতীশ। ছেলের স্কুল বদলানোর জন্য ট্রান্সফার সার্টিফিকেট চাইতে স্কুলে গেলে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় তাঁর।

ব্যবসায়ীর অভিযোগ, স্কুলে অফিস ঘরে তাঁকে রীতিমতো চেপে ধরেন শ্রীদেবী ও তাঁর দুই সহকর্মী। মোবাইলের ঘনিষ্ঠ ভিডিয়ো ও ছবি দেখিয়ে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে ওই ছবি, ভিডিয়ো পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়। তখনকার মতো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড় পান তিনি। কিন্তু ব্ল্যাকমেলের ফোন আসা বন্ধ হয় না। বাধ্য হয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সতীশ। তার পরই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।

 

ফুয়াদ

×