
লোহিত সাগরে হামলার শিকার মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরী
লোহিত সাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানকে লক্ষ্য করে অন্তত তিন বার হামলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন এই রণতরী ও এর বহরে থাকা জাহাজে বুধবার ভোরের দিকে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের পরিচালিত আল-মাশিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া বলেছে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হুথির সামরিক শাখার সদস্যরা মার্কিন রণতরী ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানে হামলা চালিয়েছেন। মার্কিন রণতরীর বহর লক্ষ্য অন্তত তিন বার এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আমেরিকান শত্রুদের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান গতিতে আমাদের হামলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলি যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম থামবে না। তবে লোহিত সাগরে ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানে হুথিদের হামলার বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
মঙ্গলবার ইয়েমেনে হুথিদের গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের হুদাইদাহর মানসুরিয়া জেলায় একটি পানি প্রকল্পে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই হামলায় সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় প্রকল্পের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজায় অধিক পরিমাণে মানবিক সহায়তাবাহী গাড়িবহর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন রণতরীর বহরে হামলা চলবে বলে হুমকি দেয় হুথি বিদ্রোহীরা। পরে এই হুমকির জবাবে গত ১৫ মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তের হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর থেকে লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় হুথিরা। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।