
ছবিঃ সংগৃহীত
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রাণহানি এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবারের দুর্যোগে কমপক্ষে ৭০০ মুসলিম নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মান্দালায় ও সাঙ্গাই অঞ্চলে ধ্বংস হয়েছে অন্তত ৬০টি মসজিদ। সাগাইং-এর এক ইমাম হারিয়েছেন ১৭০ জন বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজন।
মিয়ানমারের অধিকাংশ মসজিদ ১৯ শতকে নির্মিত, যেগুলো এরপর আর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। ঈদের আগে জুমাতুল বিদার নামাজে অংশ নিতে মিয়ানমারের মসজিদগুলোতে নামে মুসল্লিদের ঢল। নামাজ চলাকালীনই কেঁপে ওঠে গোটা দেশ।
ধসে পড়ে একের পর এক স্থাপনা, রেহাই পায়নি মসজিদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, মান্দালায় ও সাগাই অঞ্চলে প্রায় ৬০টি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মান্দালায় ১৮টি মসজিদ ধসে পড়ে। মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, ১৯ শতকে নির্মিত এসব মসজিদ কখনোই সংস্কার করা হয়নি। এ কারণে বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা।
এখনো অনেক দুর্গম এলাকার তথ্য মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০০ মুসলিমের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম। সাগাইং-এর বাসিন্দা সোনায় ও একাই হারিয়েছেন ১৭০ বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনকে, যাদের বেশিরভাগই ভূমিকম্পের সময় মসজিদে ছিলেন।
বলা হচ্ছে, যেসব মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, সেসবের ভেতরে থাকা মুসল্লিদের প্রায় সবারই মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো অনেক মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ১,৬০০টি বাড়ি, ৬৭০টি মঠ, সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমপক্ষে ২৯০টি প্যাগোডা ধ্বংসের তথ্য দিয়েছে জান্তা সরকার। তাদের দেওয়া হিসাবে মুসলিম সম্প্রদায় ও মসজিদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইমরান