
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না ভারত, এটা এখন বলাই যায়। বিশেষ করে বিমসটেক বৈঠকে ডক্টর ইউনূসের সঙ্গে আলাদা বসতে মোদি রাজি না হওয়ায় এমন কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির মহলে। অন্যদিকে পাকিস্তান আগস্টের পর থেকে এক হাত বাড়িয়ে দিয়েই রেখেছে। প্রধান উপদেষ্টা সফল চীন সফরের পর রাজনীতির অনেক কিছুই উলটপালটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ঈদের দিন পাকিস্তান সরকার প্রধান ডক্টর ইউনূসকে টেলিফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। শেহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পাকিস্তান সফরের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। তবে এই সফর হবে বলে আওয়াজ রয়েছে সরকারি মহলে। আর এ কারণেই হঠাৎ গুঞ্জন রটেছে তাহলে কি বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান জোট হচ্ছে!
বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের চরম অবহেলার অভিযোগই বাধ্য করেছে বিকল্প এই জোট তৈরির। এমন কথাই ভেসে বেড়াচ্ছে। এদিকে চীনে ডক্টর ইউনূসের সফল সফরে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে পড়ে গেছে ভারত। রাজনীতির সচেতনরা বলছেন একমাত্র ফ্যাসিস্ট হাসিনার জন্য গোটা একটি দেশকে সুসম্পর্ক থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে ভারত। যা নিয়ে চীনও সচেতন। বিশ্লেষকরা বলছেন শি জিন পিংও চায়না বাংলাদেশের উপর ভারতের একচেটিয়ে আধিপত্য থাকুক। যে কারণে ডক্টর ইউনূসকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শি জিন পিং।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারত সরকার প্রধান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করেছেন নির্বাচিত সরকার আসলেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবে ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নন দেশটি।
এর আগে একাধিকবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ কিন্তু মোদির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। জানা গেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা না হওয়ায় চীন সফরে যান ডক্টর ইউনূস। অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর কদম এগিয়ে আছে। ৫৩ বছর পর পাকিস্তানের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে শুরু করে বাংলাদেশের মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে।
ঈদের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূসকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চীনের সফল সফরের পর পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণকে ঘিরে এরই মাঝে কূটনৈতিক মহলে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান যদি এক পথে হাঁটতে শুরু করে তাহলে বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়ে যাবে ভারত। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একতরফা আধিপত্য খর্ব হওয়ার শঙ্কাও করছেন বোদ্ধারা।
সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=GHLgoxBHNLA
আবীর