ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

ইইউর সতর্কতা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত!

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ২৯ মার্চ ২০২৫

ইইউর সতর্কতা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত!

ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি অভিনব নির্দেশনা জারি করেছে। ইইউর সকল সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ৭২ ঘন্টার জরুরি সরঞ্জাম ও খাদ্য মজুদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা ইইউর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত প্রস্তুতিমূলক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

এই ঘোষণার পেছনে ইইউর যুক্তি হলো বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রস্তুত থাকা। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, মহামারী থেকে শুরু করে সাইবার আক্রমণ বা সামরিক সংকট - সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য এই প্রস্তুতি প্রয়োজন। কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের স্বাবলম্বী করে তোলা, যাতে কোনো সংকটের প্রথম ৭২ ঘন্টায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

ইইউর এই নতুন কৌশলটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। সুইডেন দীর্ঘদিন ধরে তার নাগরিকদের জরুরি খাদ্য ও পানি মজুদ রাখতে উৎসাহিত করে আসছে। নরওয়ে পারমাণবিক হামলা মোকাবিলায় আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণের ব্যবস্থা রেখেছে। জার্মানি নাগরিকদের ব্যক্তিগত বাংকার নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে। ফিনল্যান্ডের সাবেক রাষ্ট্রপতি সৌলি নিনিস্তো সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন যে ইউরোপের এখনও সশস্ত্র আগ্রাসন মোকাবিলায় একটি স্পষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

 

এই নির্দেশনা ইউরোপজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে আসন্ন কোনো বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে ইইউ কর্মকর্তারা একে "সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ" হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মতে, পূর্বপ্রস্তুতি যেকোনো বিপর্যয়কালীন ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইইউ আসলে তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে চায়।

 

 

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইইউর এই পদক্ষেপ শুধু ইউরোপ নয়, সারা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রযুক্তিগত হুমকির এই যুগে ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। ইইউর এই উদ্যোগ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলকেও অনুরূপ পরিকল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

আঁখি

×