
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা সংস্থাকে স্যাটেলাইট নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ।
জাতীয় ভূ-অবস্থান গোয়েন্দা সংস্থা (NGA) এবং জাতীয় পুনরুদ্ধার অফিস (NRO) – এই দুটি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তারা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পরিচালনা করে এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে পেন্টাগন ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করে।
এই পদক্ষেপটি, সেনা মোতায়েনের সাথে একত্রে, দক্ষিণ সীমান্তে সামরিকীকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি করছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও কঠোর হবে, যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবহার করে সীমান্তের ওপারে থাকা অস্বাভাবিক বস্তু বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে চাইছে।NGA জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে, যা "যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত মিশনে সহায়তা করবে"। আর NRO জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা সম্প্রদায় এবং পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করছে "যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য"।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, ট্রাম্প প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ড্রোন নজরদারি ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করতে চায়। অনেক বছর ধরেই সীমান্তে ড্রোন ব্যবহার করা হলেও, এবার স্যাটেলাইট এবং সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি আরও শক্তিশালী করা হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হবে, যা সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এটি সেনাবাহিনীর যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মতোই কার্যকর হতে পারে, তবে এই নজরদারির ব্যাপ্তি এবং এর ফলাফল নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত নাগরিকদের ওপর নজরদারি নিষিদ্ধ, তবে এই ধরনের সীমান্ত নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যে সেই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইন অনুযায়ী, অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ১০০ মাইলের মধ্যে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তির ওপর তদন্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা সীমান্ত শহরগুলো যেমন স্যান ডিয়েগো এবং এল পাসো অন্তর্ভুক্ত করে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু শারীরিক সীমান্ত প্রাচীর নয়, বরং একটি "ডিজিটাল প্রাচীর" তৈরি করা, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব প্রাচীরকে আরও শক্তিশালী করবে। পালান্টির মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সেন্সর টাওয়ার ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তে নজরদারি চালাতে সহায়তা করবে।
এছাড়া, অ্যান্ডুরিল নামক একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্টার্টআপও সেন্সর টাওয়ার ডিজাইন করছে, যা ইতিমধ্যেই ৩০০টি স্বয়ংক্রিয় টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস এবং বর্ডার প্রোটেকশনের জন্য মোতায়েন করেছে।
এটি সম্ভবত সীমান্তের নিরাপত্তা আরও দৃঢ় করবে, তবে এর মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকদের গোপনীয়তার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে অনেক উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে, তবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করতে নজরদারি ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স
আফরোজা