ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১

ফিলিস্তিনের দুঃসময়ে যেকারণে সবসময় নীরব থাকে আরব বিশ্ব

প্রকাশিত: ১৬:২২, ২৪ মার্চ ২০২৫

ফিলিস্তিনের দুঃসময়ে যেকারণে সবসময় নীরব থাকে আরব বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নতুন কিছু নয়। গাজার রক্তাক্ত প্রান্তর কিংবা পশ্চিম তীরের ধ্বংসস্তূপ—প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণ। অথচ, মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিদার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও অন্যান্য আরব দেশগুলো প্রায় নীরব।

সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশরসহ বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে, কারণ তাদের অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাগত স্বার্থ জড়িত। অনেক আরব দেশই ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তারা ইরানের প্রভাব মোকাবিলা করতে চায়।

অনেক আরব দেশেই শাসকগোষ্ঠী একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালাচ্ছে। তারা মনে করে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব হলে দেশের ভেতরে আন্দোলন ও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইউএই, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা এই দেশগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে নিরুৎসাহিত করছে।

সরকারিভাবে এখনো ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দিলেও, সৌদি আরব গোপনে ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে সৌদি ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস হয়েছে। ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইউএই। এরপর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামরিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশই অনেক আগেই ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। বিশেষ করে মিশর গাজার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে রাখে, ফলে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতা করার সুযোগ কম।

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরব দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ইসরাইলকে আরও আগ্রাসী করে তুলছে। ফিলিস্তিনিরা এখন আরব বিশ্বের বদলে তুরস্ক, ইরান ও অন্যান্য ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর দিকে তাকিয়ে আছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব দেশগুলোর এই নীরবতা কেবল ফিলিস্তিনের জন্য নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তারা হয়তো স্বল্পমেয়াদে কিছু সুবিধা পাচ্ছে, তবে ফিলিস্তিন সমস্যাকে উপেক্ষা করার দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ফিলিস্তিনের সংকট সমাধানে আরব দেশগুলো সত্যিই উদ্যোগ নেবে, নাকি নিজেদের স্বার্থেই নীরব থাকবে—এমন প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।

ফারুক

×