
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি হত্যাকাণ্ডের গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন এসব নথি প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন তথ্যের মাধ্যমে কেনেডি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই নথিগুলো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন আলোর সঞ্চার করতে পারে।
কেনেডি হত্যাকাণ্ড: ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডিকে টেক্সাসের ডালাসে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, জল্পনা-কল্পনা এবং সন্দেহ দীর্ঘ ছয় দশক ধরে চলমান। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, জনসাধারণের বড় অংশই এ হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও ব্যাখ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে।
১৮ মার্চ সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভসের ওয়েবসাইটে প্রাথমিকভাবে ৮০ হাজার পৃষ্ঠার ইলেকট্রনিক নথি আপলোড করা হয়। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এসব নথি দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছিল।
নথিতে কী আছে?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত নথিতে কেনেডির আততায়ী লি হার্ভে অসওয়াল্ডের গতিবিধি ও কার্যকলাপের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন—এসব নিয়েও তদন্তকারীরা নজর রেখেছিলেন। এছাড়া, নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, অসওয়াল্ডের স্ত্রী মারিনা অসওয়াল্ড ছিলেন একজন সোভিয়েত নাগরিক, যা পর্যালোচনার বিষয় ছিল।
নথিতে ১৯৬৩ সালের প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলও স্থান পেয়েছে, যেখানে "অপারেশন মঙ্গুস" বা "কিউবান প্রকল্প" নামে একটি গোপন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল কিউবার তৎকালীন নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সরকার উৎখাত করা। নথিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর ভূমিকা সম্পর্কেও কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশিত নথি সম্পর্কে ইতিহাসবিদ এলিস এল. জর্জ বলেন, "নথিগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকতে পারে, তবে এগুলো জনগণের মনে থাকা দীর্ঘদিনের প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান দেবে, এমনটি মনে করার কারণ নেই।"
কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিশ্বাস করে না যে কেনেডিকে এককভাবে লি হার্ভে অসওয়াল্ড হত্যা করেছিলেন। অনেকের ধারণা, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বা তৎকালীন প্রশাসনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন কেনেডি।
১৯৬৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের নেতৃত্বে ওয়ারেন কমিশন গঠন করা হয়, যা তদন্ত শেষে জানায় যে কেনেডিকে এককভাবে অসওয়াল্ডই হত্যা করেছেন। তবে, জনমতের বড় অংশ এই তদন্ত প্রতিবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। জরিপে দেখা গেছে, ২০ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, আর ১৬ শতাংশের ধারণা সিআইএ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে।
নথি প্রকাশের উদ্যোগ
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কেনেডি হত্যাকাণ্ড, তার ছোট ভাই রবার্ট এফ. কেনেডি এবং মার্টিন লুথার কিং হত্যার সব গোপন নথি প্রকাশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প প্রশাসন জনসাধারণের জন্য কেনেডি হত্যার গোপন নথিগুলো প্রকাশ করেছে।
তবে, এই নথি প্রকাশের পরেও কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পুরো সত্য জানা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিষ্কার হয়নি, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল।
সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=cOX-0Wj06kU
সায়মা ইসলাম