
ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকার লড়াই করছে ফিলিস্তিনিরা
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই পর্বে প্রবেশের আগেই চারটি শর্ত দিয়েছে ইসরাইল। এই চার শর্ত পূরণ না হলে দ্বিতীয় পর্বের বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দখলদার ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন। হামাসের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার আগে ইসরাইল জানিয়েছে, গাজা-মিসর সীমান্ত সংলগ্ন ফিলাডেলফি করিডর থেকে সেনা সরানো হবে না। খবর আলজাজিরার। ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়া নিয়ে দেখা দেওয়া শঙ্কার কালো মেঘ কেটেছে। চুক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরাইলের ওফার কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বন্দি ফিলিস্তিনিদের। ভোরে কড়া সেনা পাহাড়ায় ৬২০ ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিমতীরের রামাল্লায় পৌঁছে দেওয়া হয়। একইদিন রেড ক্রসের কাছে চার ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কোহেন বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের চারটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, ৭ অক্টোবর এবং তার আগে গাজায় যেসব ইসরাইলিকে জিম্মি করা হয়েছিল তাদের সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসকে গাজা থেকে বিদায় নিতে হবে। তৃতীয়ত, গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণ অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। চতুর্থ, পুরো গাজা এলাকায় ইসরাইলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে। প্রসঙ্গত, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ছয় সপ্তাহের পর্যায় ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। যার ফলে হামাস-ইসরাইলের ভয়াবহ যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও তার মিত্রগোষ্ঠী প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা ইসরাইলের সীমান্তে প্রবেশ করে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হামলার জবাবে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা এই অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল কূটনৈতিক চাপে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ফলে ১৯ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।