ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

এবার গাজাকে বিলাসবিহুল রিসোর্টে পরিণত করতে চায় ট্রাম্প! ভিডিও প্রচার

প্রকাশিত: ২০:০৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ২০:১০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

এবার গাজাকে বিলাসবিহুল রিসোর্টে পরিণত করতে চায় ট্রাম্প! ভিডিও প্রচার

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে একটি এআই-তৈরি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা শহরকে এক বিলাসবহুল রিসোর্টে রূপান্তরিত দেখানো হয়েছে, আর সেই রিসোর্টের ওপর তাঁর নাম জ্বলজ্বল করছে।

ভিডিওটির উৎস স্পষ্ট নয়, এবং এটি কার তৈরি তাও জানা যায়নি। ট্রাম্প ভিডিওটি শেয়ার করলেও কোনো মন্তব্য করেননি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ভিডিওটি লিঙ্কডইন, এক্স (টুইটারের নতুন নাম), ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প যে সংস্করণটি শেয়ার করেছেন, তা রাম্বল নামক একটি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে নেওয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক ‘ফ্যান্টাসি’
ভিডিওটি শুরু হয় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষজন, এমনকি কিছু সশস্ত্র ব্যক্তির চলাফেরার দৃশ্য দিয়ে। এরপরই দৃশ্য বদলে গাজাকে দেখানো হয় আধুনিক স্থাপনা ও সমুদ্র তীরবর্তী বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের শহর হিসেবে।

একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি শিশুর হাতে ট্রাম্পের মাথার আকৃতির বেলুন। আরেকটিতে বিশাল এক সোনালি ট্রাম্প মূর্তি। এমনকি একটি দৃশ্যে একজন ব্যক্তি সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে বাতাসে টাকা ওড়াচ্ছেন।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের শহর রাফার মেয়র আহমেদ আল-সুফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি একেবারেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কল্পনা। ট্রাম্প যদি সত্যিই ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছু করতে চান, তবে তাঁদের জন্য সম্মানজনক জীবন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে—যা শুধুমাত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সম্ভব।"

ভিডিওতে অদ্ভুত এআই বিভ্রান্তি
কিছু দৃশ্যে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি সুইমিং পুলের পাশে বসে আছেন, দুজনেই শার্টবিহীন এবং হাতে পানীয়। অন্য একটি দৃশ্যে এমন এক ব্যক্তিকে রুটি খেতে দেখা যায়, যার হাতে ছয়টি আঙুল—এটি স্পষ্টভাবে এআই-এর ভুলের একটি উদাহরণ।

এছাড়া ভিডিওতে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেখানে সমুদ্রসৈকতে দাড়িওয়ালা পুরুষদের নাচতে দেখা যায়, আবার এক ক্লাবের ভেতরে ট্রাম্পকে একজন মহিলার সঙ্গে নাচতে দেখা যায়।

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত পরিকল্পনা
চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে মিসর ও জর্ডানের মতো দেশগুলোতে সরিয়ে দেয়। তবে এসব দেশসহ আরব বিশ্বের নেতারা তার এই পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমার পরিকল্পনাটি ভালো ছিল। তবে আমি কারও ওপর চাপ দিচ্ছি না। শুধু পরামর্শ দিচ্ছি।”

হামাসের তীব্র প্রতিক্রিয়া
গাজায় কার্যত ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস এই ভিডিওর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন, "আমাদের ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নীতিবোধের পরিপন্থী এই ভিডিওটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপমানজনক।"

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রাম্প এক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে ইসরায়েলের পক্ষে বেশি সুবিধা দেওয়া হলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি খণ্ডিত ও সার্বভৌমত্বহীন রাষ্ট্রের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি দুই-রাষ্ট্র সমাধান সমর্থন করেন কি না।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি দুই রাষ্ট্র বা এক রাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্র নিয়ে কিছুই বলে না।”

ট্রাম্পের শেয়ার করা এই ভিডিও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের জন্য এটি কল্পনার চেয়েও বেশি দূরের বাস্তবতা।

তথ্যসূত্রঃ https://www.nytimes.com/2025/02/26/world/middleeast/trump-gaza-ai-video.html

মারিয়া

×