ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করবে?

প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করবে?

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের শত্রু যেন নিমিষেই হয়ে যাচ্ছে পরম বন্ধু। এই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কথাই ধরুন না। অথচ চলমান ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এই দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া যুদ্ধই মনে করা হচ্ছিল। কেননা এই যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অবারিত সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে। যার মূলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে সময়ের পালাবদলে যেমন সবকিছু বদলে যায় এই যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটতে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগেই জানান দিয়েছিলেন মার্কিন মসনদ পেলে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করবেন তিনি। সেই চেষ্টায়ই এখনো আছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে আপাতত থামিয়েছেন ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত। আপাতত যুদ্ধবিরতি চলছে সেখানে। যদিও এই যুদ্ধবিরোতির মাঝেও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যম পলিটিকো ও গার্ডিয়ান জানায়, জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জিটুয়েন্টি সম্মেলনে ওয়াশিংটন, মস্কো চলমান আলোচনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন ইউক্রেনের শান্তির জন্য সহায়ক সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্প্রতি যে ঐক্যমত পেয়ে পৌঁছেছে তাকেও সমর্থন জানায়। বেইজিং এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিবিদরা। তবে সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ পায়নি ইউক্রেন। এই বৈঠকের পর থেকে ইউক্রেন ও তার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেস্কিকে নিয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। জেলেস্কি জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এই ইঙ্গিত দিয়ে তাকে একনায়ক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আবার যুদ্ধে সহায়তার বিনিময়ে কিয়েবকে .৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের খনিজ সম্পদ দেয়ার দাবিও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আপাতত যে পরিস্থিতি তাতে অনুমান করা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এক ধরনের স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে চাইছে তাদের নিজেদের মধ্যে। তবে এরই মাঝে এক ভয়াবহ বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিলেন তিনি। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ খুব বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ২০ ফেব্রুয়ারি মিয়ামিতে এফআইআই প্রায়োরিটি সামিটে বক্তৃতা করার সময় তিনি বলেন, "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে কারো লাভ হবে না, কিন্তু আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে খুব বেশি দূরে নেই।" এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন এখন ক্ষমতায় থাকলে বিশ্বযুদ্ধে জর্জরিত হতে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তবে কি এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প ইরান ও ইসরাইলের মাঝে চলমান সংঘাতকেই ইঙ্গিত করলেন? কেননা সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বারবার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত অপারেশন টু প্রমিস থ্রি এর দিকে নজর দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ইসরাইলও যেন থেমে থাকার পাত্র নয়। দেশটি ইরান ইস্যুতে তাদের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে আছে। ইসরাইল এও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকলে দেশটি ইরান অধ্যায়ের শেষ করতে চায়। তাই বিশ্বের বেশিরভাগ চলমান যুদ্ধগুলো সমাপ্তির দিকে এগোলেও ব্যতিক্রম ইরান ও ইসরাইল সাম্প্রতিক সংঘাতের ইস্যু, যা সহসায় শেষ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা এই ইরান ইসরাইলের মাঝে চলমান সংঘাতই হয়তো রূপ নিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে, যাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক, যে তালিকায় থাকবে যুক্তরাষ্ট্্‌ রাশিয়া ও চীনের নামও।

আবীর

×