
চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সকল উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য একটি চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
চীনের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং সোমবার সিনহুয়া নিউজের বরাত দিয়ে বলেন, "চীন প্রত্যাশা করে যে সকল পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা উপযুক্ত সময়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে, যাতে পারস্পরিক উদ্বেগকে বিবেচনায় রেখে একটি ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি বাধ্যতামূলক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।"
তিনি আরও বলেন, "অবস্থানগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, সংলাপ সবসময় সংঘাতের চেয়ে উত্তম, এবং যুদ্ধের তুলনায় শান্তি আলোচনা সর্বদা শ্রেয়। চীন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া চুক্তির মাধ্যমে শান্তি আলোচনার সূচনাকে সমর্থন করে।"
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ফু ইউরোপকেও শান্তির জন্য ভূমিকা রাখতে, সংকটের মূল কারণগুলো যৌথভাবে সমাধান করতে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো খুঁজে বের করতে আহ্বান জানান। যাতে ইউরোপীয় মহাদেশে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, চীন রাজনৈতিকভাবে সংকটের সমাধানে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুরোধ অনুযায়ী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বিশেষত গ্লোবাল সাউথের উদ্বেগকে বিবেচনায় রেখে কাজ করবে।
সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রস্তাবটিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের মূল দায়িত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এটি জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার ভিত্তিতে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যদিও এতে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে সরাসরি স্বীকার করা হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু
শরিফ