ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

গাজায় চিকিৎসাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভুল স্বীকার করলো ইসরায়েল

প্রকাশিত: ০৮:৫৪, ৬ এপ্রিল ২০২৫

গাজায় চিকিৎসাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভুল স্বীকার করলো ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, ২৩ মার্চ দক্ষিণ গাজায় ১৫ জন জরুরি সহায়তাকর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাদের সৈন্যরা ভুল করেছিল। যদিও সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন হামাসের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এই কনভয়ে ছিল ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স, একটি জাতিসংঘের গাড়ি এবং গাজা সিভিল ডিফেন্সের একটি ফায়ার ট্রাক, যেটি রাফার কাছে গুলির শিকার হয়।

শুরুর দিকে ইসরায়েল জানায়, কনভয়টি আলো ছাড়াই সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে আসায় গুলি চালানো হয়। এছাড়াও, সেনাবাহিনীর সঙ্গে গাড়িগুলোর চলাচলের কোনো সমন্বয়ও হয়নি।
তবে, নিহত প্যারামেডিক রেফাত রাদওয়ান নিজের মোবাইলে যে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, তাতে দেখা যায়—গাড়িগুলোর হেডলাইট এবং ফ্ল্যাশিং লাইট জ্বালানো ছিল এবং তারা আহতদের সহায়তায় যাচ্ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভোরের আগে গাড়িগুলো সড়কের পাশে থামলে হঠাৎ গুলি চালানো শুরু হয়। ভিডিওটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে, যেখানে রাদওয়ান শেষ প্রার্থনা পড়তে শোনা যায় এবং কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়।

এক আইডিএফ কর্মকর্তা জানান, এর আগে তিনজন হামাস সদস্য থাকা একটি গাড়িতে গুলি চালানো হয়। এরপর কনভয়টি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আকাশপথে নজরদারি করা সৈন্যরা একে “সন্দেহজনক” মনে করে। গাড়িগুলো হামাস সদস্যদের গাড়ির পাশে থামলে সৈন্যরা মনে করে তারা হুমকির মধ্যে আছে এবং গুলি চালায়—যদিও প্রমাণ নেই যে জরুরি সহায়তাকর্মীরা সশস্ত্র ছিল।

আইডিএফ পরে স্বীকার করে, তাদের পূর্বের দাবি—যে গাড়িগুলোর লাইট বন্ধ ছিল—তা ভুল ছিল। ওই রিপোর্টটি মূলত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সৈন্যদের কাছ থেকেই এসেছিল। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, গাড়িগুলো জরুরি চিহ্নযুক্ত এবং কর্মীরা হাই-ভিজিবিলিটি ইউনিফর্ম পরা ছিল।

আইডিএফ জানায়, সৈন্যরা মরদেহগুলো বালুর নিচে পুঁতে রেখেছিল বন্য প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করতে, এবং রাস্তাটি পরিষ্কার করার জন্য পরদিন গাড়িগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
তবে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিরাপদে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায়, লাশগুলো এক সপ্তাহ পর উদ্ধার হয়। উদ্ধারকারীরা রেফাত রাদওয়ানের মোবাইল ফোনে ওই ভিডিও ফুটেজও খুঁজে পান।

আইডিএফ দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন হামাস-সংশ্লিষ্ট, যদিও এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তারা এটাও মেনে নিয়েছে যে, গুলি চালানোর সময় কেউই সশস্ত্র ছিল না।

কর্মীদের হাতকড়া পরানো হয়েছিল কিংবা কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইডিএফ।

এর আগে, একজন বেঁচে যাওয়া প্যারামেডিক বিবিসিকে বলেন, তারা লাইট জ্বালিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন এবং তার সহকর্মীরা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

আইডিএফ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে “গভীর তদন্ত” করা হবে এবং সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এদিকে, রেড ক্রিসেন্টসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

 

 

সূত্র: https://www.bbc.com/news/articles/cy0xp969n69o

আবীর

×