
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই রিয়াকফ। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে না এলে ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। তার এই মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাহিনী আইআরজিসিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। এমনকি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান নৌঘাঁটিতেও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা ইরানের পাশে থাকবে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই রিয়াকফ বলেন, "ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত হুমকি ও আল্টিমেটাম দিচ্ছে। আমরা এই ধরনের আচরণকে অনুপযুক্ত বলে মনে করি এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই। যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হুমকি অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত দেখা দিতে পারে। সমস্যা সমাধানে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।"
এর আগে, ইরান, রাশিয়া ও চীন যৌথ সামরিক মহড়া চালায়। ওমান উপসাগরে ইরানের চাবাহার বন্দরে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় তিন দেশের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শিত হয় এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার কৌশল অনুশীলন করা হয়। এতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে চীন গত ১৪ মার্চ বেইজিংয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। এতে ইরান ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠকের পর বেইজিং ও মস্কো একমত হয় যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো অবৈধ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিপরীতে ইরান, রাশিয়া ও চীন একজোট হয়ে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলছে। পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/SP3aXT0OcZQ?si=kUgOKxUsiv_Vd1KE
এম.কে.