
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউনের অপসারণের পর উচ্ছিসত জনতা
দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করাকে কেন্দ্র করে অভিশংসিত হয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। অবশেষে শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক আদালত ইউনের স্থায়ী অপসারণের পক্ষে রায় দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট পদে শূন্যতা তৈরি হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করা মাত্রই নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সে পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু।
সর্বশেষ ২০১৭ সালে, দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পার্ক গিয়ুন হিয়ে অভিশংসিত হয়েছিলেন। একই বছর মার্চের ৯ তারিখ সাংবিধানিক আদালত তাকে অপসারণের পক্ষে রায় দেয়। এর দুমাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজিত হয়েছিল। পার্কের উত্তরসূরি নির্বাচনের পরদিনই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা লী জায়ে মিউং জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ইউনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। বিরোধীদলীয় এই নেতার বিরুদ্ধে আপাতত শক্ত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায়, প্রেসিডেন্ট পদে তার আসীন হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য আইনি জটিলতার কারণে লীর নির্বাচন করা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত একটি ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা রয়েছে। এই মামলার বাঁধা টপকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন কিনা, সেটা জানার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।