ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ভারতীয় লোকসভায় এমপি কল্যাণ ব্যানার্জীর মন্তব্য— “ইসলাম অত্যন্ত আধুনিক ও উদার ধর্ম”

প্রকাশিত: ১৯:১১, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১৯:১৫, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ভারতীয় লোকসভায় এমপি কল্যাণ ব্যানার্জীর মন্তব্য— “ইসলাম অত্যন্ত আধুনিক ও উদার ধর্ম”

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, "ইসলাম অত্যন্ত আধুনিক ও উদার নৈতিক ধর্ম।"

তিনি উল্লেখ করেন যে নামাজ আদায়ের জন্য কাউকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় না, অথচ কেন্দ্রের আনা ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিমদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) লোকসভায় কেন্দ্রের আনা ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সরব হন কল্যাণ ব্যানার্জী। তিনি বলেন, এই বিল শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না, বরং রাজ্যের ক্ষমতাও খর্ব করছে। তার মতে, এই বিল সংবিধানবিরোধী এবং ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিমদের অধিকার খর্ব করার উদ্দেশ্যেই এটি আনা হয়েছে।

সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, "ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে কেউ এককভাবে কিংবা জামাতে নামাজ পড়তে পারেন, তবে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য ইমামের নেতৃত্ব প্রয়োজন। ইসলামে কারো মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা নেই এবং এটি অত্যন্ত উদার ধর্ম।"

তিনি আরও বলেন, "যে মুহূর্তে একজন ব্যক্তি মসজিদে নামাজ আদায় করেন, সেই মসজিদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং তা একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদের সম্পত্তি ধর্মীয় কারণে উৎসর্গ করা হয় এবং এটি আল্লাহর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।"

কল্যাণ ব্যানার্জী তার বক্তব্যে বলেন, "ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা ও তার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ভারতে ওয়াকফ বোর্ড গঠিত হয়েছে, যা দ্বাদশ শতাব্দী থেকে প্রচলিত। স্বাধীন ভারতে ১৯৫৪ সালে ওয়াকফ আইন পাশ হয় এবং ১৯৯৫ সালে এই আইনে সংশোধন করে বোর্ডকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালেও ওয়াকফ আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে বর্তমান সংশোধনী বিল মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত হানবে এবং এটি অসাংবিধানিক।"

সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও বিরোধীরা এই বিলকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করছেন।

ভিডিও দেখুন: https://youtu.be/O3Toz1gwuT4?si=mBZH_XYe9Huryb1t

এম.কে.

×