
ছবি: সংগৃহীত
সন্তানের চেহারা যেমন হবে—নাক কতটা উঁচু, চোয়াল কতটা দৃঢ় ও শার্প—তা কি শুধুই জেনেটিক্সের খেলা? সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশন নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ভবিষ্যত সন্তানের মুখাবয়ব গঠনে মা'র খাদ্যাভ্যাসের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অনাগত সন্তানের চেহারার গঠন নির্ধারণে ডিএনএ যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি গর্ভবতী মায়ের পুষ্টির অবস্থাও সেই জেনেটিক কোডের বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় যদি মায়ের খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে, তাহলে ভ্রূণের হাড় ও চেহারার গঠন আরও ভালোভাবে বিকশিত হয়। এতে করে সন্তানের মাথার গঠন, নাকের হাড়ের উচ্চতা এবং চোয়ালের দৃঢ়তা সুসংগঠিত হয়।
গবেষণার মূল তথ্যাবলি:
ডিএনএ-নির্ধারিত চেহারার বৈশিষ্ট্য বাস্তবে কতটা প্রকাশ পাবে, তা নির্ভর করে মা'র পুষ্টির মানের ওপর।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার জৈবিকভাবে হাড়ের গঠন ও মুখাবয়ব বিকাশে সহায়ক।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অভাবে কিছু জিন ঠিকভাবে কার্যকর হয় না—ফলে জন্মের পর চেহারায় কাঙ্ক্ষিত কাঠামোর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ইয়াং ঝাং বলেন, “জেনেটিক ডিজাইন তো আছেই, কিন্তু সেই ডিজাইন বাস্তবে ঠিকভাবে প্রকাশ পাবে কিনা তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পুষ্টির ওপর। গর্ভকালীন খাদ্যাভ্যাস তাই শুধু সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, তার বাহ্যিক গঠন গড়ার জন্যও জরুরি।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স যথাযথভাবে রাখতে হবে।
মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, মাংস এবং বাদাম জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এই গবেষণা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে চিকিৎসক ও গর্ভসেবা বিশেষজ্ঞদের। এখন প্রশ্ন একটাই—শুধু জেনেটিক্স নয়, ভবিষ্যত সন্তান যেন সুস্থ ও সৌন্দর্যপূর্ণ চেহারার অধিকারী হয়, তার জন্য মা'র সঠিক পুষ্টিই কি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার?
ফারুক