
ছবি: সংগৃহীত
লিভার সুস্থ রাখতে ১১টি সহজ অভ্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ প্রতিমা নাগরাজ। তিনি বলেছেন, যদি আপনি ফোলাভাব, ক্লান্তি, ওজন কমাতে না পারা, হরমোনজনিত সমস্যা, মাসিক অনিয়ম, ব্রণ, মুড সুইং, ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা এস্ট্রোজেনের আধিপত্যের মতো লক্ষণ অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে আপনার লিভার সাহায্য চাচ্ছে।
লিভার সুস্থ রাখতে ১১টি সহজ অভ্যাস:
ক্রুসিফেরাস শাকসবজি খান: ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, কেল ইত্যাদি শাকসবজি লিভারের ডিটক্সিফিকেশন ও এস্ট্রোজেন বিপাককে সমর্থন করে।
লিভার-বান্ধব হার্বস ব্যবহার করুন: মিল্ক থিসল, ড্যান্ডেলিয়ন, লিকোরিস, বারডক ও হলুদ লিভারের ডিটক্সিফিকেশন সমর্থন করে।
গরম লেবুর পানি পান করুন: প্রতিদিন সকালে গরম লেবুর পানি পান লিভার কার্যকারিতা উত্তেজিত করে, হজমে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
লিভারের ওপর চাপ কমান: অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্ক ফুড লিভারকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে, ডিটক্সিফিকেশন ধীর করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান লিভারকে কার্যকরভাবে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে।
ঘাম ঝরান: ব্যায়াম বা ইনফ্রারেড সোনার মাধ্যমে ঘাম ঝরানো লিভারের টক্সিন ত্বকের মাধ্যমে বের করতে সাহায্য করে।
রাতের খাবারের পর অন্তত ১২ ঘণ্টা উপবাস করুন: রাতের খাবারের পর অন্তত ১২ ঘণ্টা উপবাস লিভারকে বিশ্রাম নিতে, পুনর্জন্ম লাভ করতে এবং দক্ষতার সঙ্গে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে।
টক্সিন কমান: জৈবিক খাবার, প্রাকৃতিক পরিষ্কারের ও স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করুন, যাতে পরিবেশগত টক্সিনের কারণে লিভারের ওপর চাপ কমে।
ফাইবার গ্রহণ বাড়ান: শাকসবজি, ফলমূল ও বীজ থেকে ফাইবার টক্সিন ও হরমোনকে বাঁধে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য সমর্থন করে, মলত্যাগ সহজ করে এবং টক্সিন বের করতে সহায়তা করে, ফলে লিভারের কাজের চাপ কমে।
কাস্টর অয়েল প্যাক ব্যবহার করুন: লিভারের ওপর কাস্টর অয়েল প্যাক প্রয়োগ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ান, ডিটক্সিফিকেশন সমর্থন করুন, প্রদাহ কমান এবং লিভারের কার্যকারিতা পুষ্টি দিন।
লিভারের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করুন: লিভার আয়রন, তামা, ভিটামিন A, C, D, ও E-এর মতো পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ খাবার যেমন পাতা শাকসবজি, সাইট্রাস ফল, বাদাম, বীজ, ডিম ও বায়ো-অ্যাভেইলেবল প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন, যা ডিটক্সিফিকেশন বাড়ায়, লিভার কোষ রক্ষা করে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে।
এই অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করে আপনি আপনার লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারেন।
শিহাব