
সেলিব্রেটি থেকে ইনফ্লুয়েন্সার সবাই যেন ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের গুণকীর্তনে মশগুল। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে চোখ রাখলেই দেখা যায় হাজারো পণ্যের প্রচার। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, ভিটামিন ইন্ডাস্ট্রি এখন বিলিয়ন ডলারের বাজার! কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সব সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই দরকার? না কি এতে আছে এমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যা আপনার অজানাই থেকে যাচ্ছে?
আমেরিকার কানসাস সিটির একজন স্বনামধন্য ফাংশনাল মেডিসিন চিকিৎসক, ডা. জাবান মুর, নিজেই বলেছেন কোন ভিটামিন সাপ্লিমেন্টগুলো তিনি কখনো নেন না এবং কেন নেন না। প্রায় ৭ লক্ষ ফলোয়ারের মালিক এই চিকিৎসক সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মতামত শেয়ার করে জানান, ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের জগৎও অনেক সময় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর মতোই বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই লেবেল না পড়ে কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয়। নিচে দেখে নিন, কোন কোন ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট থেকে সাবধান থাকা উচিত এবং তার বিকল্প কী হতে পারে।
ভিটামিন বি১২
ভিটামিন B12 আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি আমাদের শরীরের কোষ উৎপাদন এবং রক্তকণিকা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। সাধারণত এটি প্রাণিজ খাবার থেকেই পাওয়া যায়, যেমন মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, কলিজা, কিডনি ইত্যাদি। তবে, ডা. মুর সায়ানোকোবালামিন নামক সিনথেটিক B12 সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে নিষেধ করেন, কারণ এতে সায়ানাইড থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তিনি পরামর্শ দেন মিথাইলকোবালামিন ব্যবহার করার, যা সহজে শরীর শোষণ করতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খনিজ। এটি স্নায়ু, পেশি, হাড়ের সুস্থতা, ঘুম এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় বাদাম, বীজ, ডাল, শস্যজাতীয় খাবার এবং শাকসবজি থেকে। তবে, ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড বা সাইট্রেট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মুর, কারণ এগুলো মূলত ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে এবং পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেট ব্যবহার করতে, যেটি ভালোভাবে শোষিত হয়।
আয়রন
আয়রন আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহন এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। আয়রনের অভাব হলে রক্তস্বল্পতা (এনিমিয়া) দেখা দিতে পারে, যা দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। ডা. মুর ফেরাস সালফেট নামক আয়রন সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন, কারণ এটি হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তার পরিবর্তে, ফেরাস বিসগ্লাইসিনেট গ্রহণের পরামর্শ দেন, যা হজমে সহজ এবং শোষিত হয়। হিম আয়রনও একটি ভালো বিকল্প, কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে শোষিত হয় এবং দ্রুত কার্যকরী।
সর্বশেষে, যখনই ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সাপ্লিমেন্টের লেবেল পড়া এবং প্রকৃত উপাদানগুলো জানার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। যদি সম্ভব হয়, প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সচেতনতা এবং জ্ঞানের বিকল্প নেই।
সূত্র:https://tinyurl.com/2uembtc3
আফরোজা