
আমাদের ফুসফুস দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে অক্সিজেন সরবরাহ করে শরীরকে সচল রাখে। কিন্তু দূষণ, ধুলাবালি, ধোঁয়া ও পরাগরেণুর (পোলেন) মতো উপাদান ধীরে ধীরে আমাদের শ্বাসযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বসন্তকালে বাতাসে পরাগরেণুর পরিমাণ বেড়ে যায়, যা হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তাই, নিজের ফুসফুসের যত্ন নেওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একান্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁপানি রোগীদের প্রায় অর্ধেক এবং COPD (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) রোগীদের এক-চতুর্থাংশের জন্য পরাগরেণু বড় সমস্যা। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এটি মারাত্মক হাঁপানির আক্রমণ বা COPD-এর তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
একটু সচেতন হলেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। জেনে নিন ফুসফুসকে সুস্থ রাখার ৮টি সহজ উপায়, যা আপনাকে দেবে স্বস্তিদায়ক শ্বাস এবং প্রাণবন্ত জীবন!
কিন্তু চিন্তা নেই! একটু সচেতন থাকলেই বসন্ত উপভোগ করা সম্ভব। জেনে নিন সহজ ৮টি উপায়-
১. নাকের যত্ন নিন,নাসাল স্প্রে ব্যবহার করুন
পরাগরেণুর হাত থেকে বাঁচতে নাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লক্ষণ শুরু হওয়ার আগেই দুই থেকে চার সপ্তাহ আগে অ্যান্টিহিস্টামিন নেওয়া শুরু করলে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়।
২. প্রতিদিন বায়ুর মান ও পরাগরেণুর মাত্রা চেক করুন
যারা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগেন, তাদের উচিত প্রতিদিনের বায়ুর মান ও পরাগরেণুর মাত্রা চেক করা।বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত গ্যাস যখন সূর্যালোক ও পরাগরেণুর সঙ্গে মিশে যায়, তখন এটি ধোঁয়াটে পরিবেশ তৈরি করে, যা ফুসফুসের জন্য খুব ক্ষতিকর।যতটা সম্ভব প্রধান সড়ক এড়িয়ে চলুন এবং সকালে বের হওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ তখন বাতাস তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে।
৩. সকাল-বিকেল বাইরে না যাওয়াই ভালো
পরাগরেণুর মাত্রা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় বেশি থাকে। তাই বিকেলের দিকে বাইরে বের হওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
৪. জানালা বন্ধ রাখুন, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
ঘরের জানালা খোলা রাখলে পরাগরেণু,ধুলা সহজেই ভেতরে ঢুকে যায়। তাই দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন, যাতে বাতাস ফিল্টার হয়ে আসে।
৫. ইনহেলার ও ওষুধ সব সময় সঙ্গে রাখুন
শীতকালে তুলনামূলকভাবে বাতাস পরিষ্কার থাকে, কিন্তু বসন্তে পরাগরেণু, ধুলাবালি ও ছত্রাক বেশি থাকে, যা শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে তুলতে পারে।তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন-ইনহেলার ও ওষুধ সবসময় হাতের কাছে রাখুন।
৬. প্রচুর পানি পান করুন
শরীর হাইড্রেটেড থাকলে নাক পরিষ্কার থাকে, মিউকাস পাতলা হয় এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধ সহজ হয়। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন।
৭. ব্যায়ামের আগে সাবধানতা অবলম্বন করুন
বাইরে ব্যায়াম করার পরিকল্পনা থাকলে, পরাগরেণুর মাত্রা কমার অপেক্ষা করুন।সাধারণত দুপুরের দিকে পরাগরেণুর মাত্রা কম থাকে, তাই তখন ব্যায়াম করুন।এছাড়া, ইনহেলার সঙ্গে রাখুন, যাতে জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করা যায়।
৮. শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
বসন্তে যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা ফুসফুসের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ওষুধ না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র:https://tinyurl.com/2p7vazp6
আফরোজা