
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগের সুযোগ দেয়। দীর্ঘ এক মাস রোজার পর, হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই রমজানের পরও সুস্থ ও সক্রিয় থাকার জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।
প্রথমত, ইফতারের মতো ধীরে ধীরে উপবাস ভাঙতে হবে। চর্বিযুক্ত ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি হজমের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। বরং ফলের রস, সবজি, বাদাম, ডালজাতীয় খাবার এবং দই খাওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, হজমশক্তি ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়াযুক্ত খাবার যোগ করা দরকার। ইদের সময় অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার ফলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা এড়াতে প্রচুর পানি পান এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
তৃতীয়ত, শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করতে যথেষ্ট পরিমাণ পানি, লেবুর শরবত, ডাবের পানি এবং তাজা ফলের রস গ্রহণ করা জরুরি। রোজার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়, যা দ্রুত পূরণ করা দরকার।
চতুর্থত, দিনের প্রথম ভাগে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করাই ভালো, কারণ এটি বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। সকালের খাবারে প্রোটিন ও ফলমূল থাকা দরকার, আর রাতের খাবার হালকা হওয়া উচিত। এছাড়া, দিনে তিনবেলার পরিবর্তে ৫-৬ বেলা কম পরিমাণে খাবার খেলে শরীর দ্রুত নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
এছাড়া, রমজানের পর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। এটি শরীরের কোষ মেরামতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত ১৬/৮ পদ্ধতি (১৬ ঘণ্টা উপবাস ও ৮ ঘণ্টা খাবার গ্রহণ) বা ৫:২ পদ্ধতি (সপ্তাহে ২ দিন কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ) অনুসরণ করা যেতে পারে।
রমজানের পর সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান পরিহার করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা অনুসরণ করলে রোজার পরেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব।
সূত্র: https://alborgdx.com/ksa/en/healthy_eating_habits_after_ramadan/
আবীর