![বায়ুদূষণে বাড়ছে ফুসফুসের ক্যান্সার! বায়ুদূষণে বাড়ছে ফুসফুসের ক্যান্সার!](https://www.dailyjanakantha.com/media/imgAll/2024April/বায়ুদুষণ-1-2502091602.jpg)
ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধূমপানকে দায়ী করা হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণা উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। ধূমপান না করেও বহু মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, আর এর মূল কারণ বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়া।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস (৪ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে প্রকাশিত দ্য ল্যান্সেট রেসপিরেটরি মেডিসিন জার্নাল-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের তুলনায় অ-ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অ-ধূমপায়ীদের মধ্যেই বাড়ছে অ্যাডিনো কার্সিনোমা
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩% থেকে ৭০% মানুষ কখনোই ধূমপান করেননি। বিশেষ করে অ্যাডিনো কার্সিনোমা নামক ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে। এটি মূলত শরীরের তরল উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলিতে দেখা যায়, যেমন মিউকাস গ্রন্থি ও পাচনগ্রন্থি।
বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার কমলেও ফুসফুসের ক্যান্সার কেন বাড়ছে?
গবেষকরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে বিষাক্ত কণা (পার্টিকুলেট ম্যাটার) ফুসফুসে প্রবেশ করে কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যা ক্যান্সারের জন্ম দিচ্ছে।
মহিলাদের মধ্যেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
বিশ্বজুড়ে মহিলাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে ৯,০৮,৬৩০ জন মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৫,৪১,৯৭১ জন অ্যাডিনো কার্সিনোমায় ভুগছিলেন। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ৮০,৩৭৮ জনের ফুসফুসের ক্যান্সারের মূল কারণ বায়ুদূষণের ক্ষতিকর কণা।
বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ধূমপান বর্জন করলেই ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যাবে না। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ফুসফুসের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর প্রতি পাঁচটি ঘটনার মধ্যে একটি এখন অ-ধূমপায়ীদের মধ্যে ঘটছে। গবেষকরা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সতর্কতা ও করণীয়:
*বায়ুদূষণ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা
*দূষিত এলাকায় মাস্ক ব্যবহার করা
*নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
*শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া
ফুসফুসের ক্যান্সার যে শুধুমাত্র ধূমপায়ীদের রোগ নয়, তা এই গবেষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে। দূষণ কমানো ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রিফাত