
ছবিঃ সংগৃহীত
জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান সম্প্রতি এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে নারী স্বাধীনতা নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে তার স্বাধীনতার সংজ্ঞা তখনকার দিনে গঠিত হয়েছিল।
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে নতুন কর্মী বাছাই পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের থিয়েটার ও সংস্কৃতি অঙ্গনের কয়েকজন কিংবদন্তি—সারা যাকের, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নুর, ও আতাউর রহমান। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রুনা খানকে মাত্র একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল:
সারা যাকের জিজ্ঞেস করেন, “নারী স্বাধীনতা বলতে তুমি কী বুঝ?”
রুনা খান সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, “যে কাজটা স্বাভাবিক, সেটা নারী-পুরুষ সবাই স্বাভাবিকভাবেই করতে পারবে। রাত দশটায় কোনো কাজ থাকলে, পুরুষ একা বাইরে বেরিয়ে যেমন কাজটা করতে পারে, নারীও একলাই কাজটার জন্য বেরুতে পারবে। ব্যাস, এটুকু নিরাপত্তা। বাড়তি কোনো সুবিধা চাই না। স্বাভাবিক কাজ করার নিরাপদ পরিবেশটাই আমার কাছে নারী স্বাধীনতা।”
এই উত্তরেই নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করেছেন, তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে এখনো অধরা।
“৯৮ সাল থেকে এই শহরে আমি, কিন্তু কখনো সন্ধ্যার পর একলা বের হওয়ার সাহস পাইনি।”
থিয়েটারের বন্ধুরা, প্রোডাকশন বয়, পরিবারের সদস্যরা কিংবা পরবর্তীতে ড্রাইভার—সবসময়ই কেউ না কেউ তার সঙ্গী ছিলেন। একা চলার যে স্বপ্ন তিনি ২০০২ সালে দেখেছিলেন, ২০২5 সালে এসেও তা পূরণ হয়নি।
তবে তিনি স্বপ্ন দেখা থামাননি।
“আমি এখনও স্বপ্ন দেখি—এই শহরে একদিন একলা রাত তিনটায় বেরিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে কোথাও বসে ভোরের সূর্যোদয় দেখবো। তোমরাও স্বপ্ন দেখো মেয়েরা, স্বপ্ন দেখা থামিও না! হেঁটে-হেঁটে আমরা দেখবো রাত কীভাবে ভোর হয়।”
তথ্যসূত্রঃ https://www.facebook.com/share/p/19yJQSY2uw/
মারিয়া