বনের মেয়ে পাখি’ নাটক
থিয়েটারচর্চায় পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা নাট্যদল বাঁশরী রেপার্টরি। আরণ্যক, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, থিয়েটার ’৫২ ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের কিছু মঞ্চশিল্পীর সম্মিলন ঘটে এ নাট্যদলে। সমাজ বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির নির্যাসে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় এই দলের মঞ্চশিল্পীরা। সেই লক্ষ্য পূরণে জাতীয় কবির বিলুপ্তপ্রায় একটি পালা নাটককে মঞ্চে আনে রেপার্টরি দলটি। নজরুলের পালা নাটকের শিরোনাম ‘বনের মেয়ে পাখি’। ১১০ বছর পূর্বে নির্দেশিত নাটকটিকে নতুন করে নির্দেশনা দেন সাজ্জাদ সাজু। ইতোমধ্যে প্রযোজনাটি পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। সেই ¯্রােতধারায় বুধবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির দশম মঞ্চায়ন হয়।
প্রযোজনাটি গুরুত্ব তুলে ধরে নিদের্শক সাজ্জাদ সাজু জনকণ্ঠকে বলেন, শিল্প-সাহিত্যের সব শাখাতেই রয়েছে জাতীয় কবির ঐশ্বর্যময় সৃষ্টিসম্ভার। আর সেই বিপুলসংখ্যক সৃষ্টিরই এক অনবদ্য নির্যাস এই পালা নাটক। তবে মঞ্চস্থ না হওয়ায় এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পালা নাটকটি রক্ষায় দলের সকলের প্রচেষ্টায় পুনরায় মঞ্চে নিয়ে আসা হয় গত বছরের এপ্রিলে। অতঃপর প্রযোজনাটি দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়। ঢাকার পাশাপাশি এটি নজরুলের জন্মভিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামেও মঞ্চস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে দলের সদস্যদের এটা এক ভিন্ন ধরনের অনুভূতি। সবার মধ্যে ভালোলাগার অনুভূতির সমান্তরালে প্রবেল আবেগ কাজ করেছে। তাছাড়া নজরুল নিজেও ১২ বছর বয়সে নাটকটির সুজন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সে কারণে দলের পক্ষ থেকে প্রযোজনাটির প্রতিটি প্রদর্শনীতেই সর্বোচ্চ নিখুঁতভাবে মঞ্চায়নের চেষ্টা করা হয়।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, মানুষের জীবনবোধ, বিশ্বাস ও সাম্যের জয়গানে চির জাগরুক কবি নজরুলের সৃষ্টির নির্যাসে ভবিষ্যতেও আমরা আরো ভালো কাজ করতে চাই। সমাজ বাস্তবতায় নাটকের মাধ্যমে নজরুলচর্চারে প্রসার ঘটাতে চাই।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, রায়গড়ের পাহাড় ও জঙ্গালাকীর্ণ পথে বাঘের আনাগোনা প্রবল। সেই সংকুল পথে পালকিবাহী বেহাড়া দল বাঘের আক্রমণের শিকার হয়। জানের মায়ায় পালকি ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। আর পালকির অভ্যন্তরে নারী কণ্ঠের আর্তনাদে ছুটে আসে সাপুড়ে ভগুলাল। বাঘের সাথে লড়াই করে সে উদ্ধার করে এক শিশুকন্যাকে। কিন্তু শিশুটির মাকে বাঁচাতে পারে না ভগুলাল। শিশুটিকে আগলে রেখে তার দেখভালের দায়িত্ব নেয় বাঘা ভগুলাল। তার নাম রাখে পাখি, বনের মেয়ে পাখি। ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে সে। সর্পদেবী মনসার কৃপায় পাখি পেয়ে যায় যেকোনো ব্যাধি সারাবার ক্ষমতা। সেই সঙ্গে তার জীবনে যুক্ত হয় সুজন নামের জীবনসঙ্গী । মনসার বরে প্রাপ্ত ক্ষমতা পাখিকে নিয়ে চলে তার হারানো পরিচয় পুনরুদ্ধারের পথে।
প্রযোজনাটিতে পরিণত পাখি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত রেজা খান। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কামরুল হাসান, শামীমা শওকত লাভলী, ফজলে রাব্বি, রুবলী চৌধুরী, সাজ্জাদ সাজু, রেজওয়ান পারভেজ, তাজউদ্দিন তাজু, শারমিন হায়াত দীপা, ফিরোজ আল মামুন, রুহুল আমিন, মাজহারুল জুয়েল, সাজ্জাদ সাজু, আব্দুল আলীম, শিমুল চন্দ্র মিস্ত্রি, সালমান, নূরজাহান নূরজাহান, মেধা প্রমুখ। ঠান্ডু রায়হানের আলোক পরিকল্পনায় মঞ্চসজ্জা করেছেন সাজু খাদেম।
শহিদ