
ইনসার্টে অঞ্জন, ডানে জাতীয় জাদুঘরের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন
রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরে শেষ শ্রদ্ধা জানানো শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হয় তাকে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটায় ভারতের বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘মেঘমল্লার’ সিনেমার এই নির্মাতা। তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রয়াত নির্মাতার মরদেহ দেশে আনা হয়। সেখান থেকে বোন তন্নির বাসা ইস্কাটনে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে স্থানীয় মসজিদে গোসল শেষে প্রথম জানাজা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আকরাম খান, সুরকার ও গীতিকার প্রিন্স মাহমুদসহ অনেকে। জানাজা শেষে তার মরদেহ রাখা হয় লাশবাহী বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে।
বৃহস্পতিবার সকালে অঞ্জনের মরদেহ তার কর্মস্থল স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর পর তার জানাজা হয়। এরপর জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে আরেকটি জানাজা হয়। সেখান থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে নেওয়া হয় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। শেষে নেওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে।
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্প অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মেঘমল্লার’ নির্মাণ করেন অঞ্জন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এটি ছিল তার প্রথম ফিচার ফিল্ম। প্রথম ছবির জন্যই তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সরকারি অনুদানে সর্বশেষ তিনি নির্মাণ করেন ‘চাঁদের অমাবস্যা’। গেল বছরেই সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও দেশের সার্বিক অবস্থা এবং নিজের অসুস্থতার কারণে মুক্তি দিতে পারেননি। তবে খুব শীঘ্রই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে আগ্র্রহী ছিলেন। এখন নির্মাতাকে ছাড়াই দর্শক দেখবেন সিনেমাটি।