
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অপেক্ষার সময় ৪০ বছরেও গড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের বিকল্প সম্ভাবনার দিকেও নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ট্র্যোস্টার। তিনি ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আখিম ট্র্যোস্টার জানান, জার্মানি সবসময় বাংলাদেশি মেধাবী ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। তবে ভিসা আবেদনের বিপুল চাপের কারণে অনেক আবেদনকারীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভিসা প্রক্রিয়ায় জার্মান দূতাবাসের সক্ষমতা বাড়ানো হলেও তা এখনও চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
ঢাকায় অবস্থিত জার্মান দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে, যার সংখ্যা ১,৭২৩। অথচ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৫৩টি। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী ভিসা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
শুধু স্টুডেন্ট ভিসাই নয়, পরিবার পুনর্মিলন (ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন) ক্যাটাগরিতেও দূতাবাসের সক্ষমতা বেড়েছে। ২০১৮ সালে পরিবার পুনর্মিলন ক্যাটাগরিতে ৪১৫টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৪-এ।
তবে ভিসার চাহিদা যেহেতু ক্রমাগত বাড়ছে, তাই রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার তাদের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন এবং একই সাথে শিক্ষার্থীদের বিকল্প সুযোগ ও গন্তব্য সম্পর্কে ভাবতে পরামর্শ দিয়েছেন।
সায়মা ইসলাম