
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বুকে ১৮ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক ও অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস। এই কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জড়িয়ে আছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি পথ, হলের আঙিনা, পুকুরে ধারে বসে গল্প, নায়েমের গলির আড্ডা আর ক্লাস রুমের প্রাণবন্ত মুহূর্ত।
তবে সবসময় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে।
ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর। আর প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উপভোগ করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। চলতি মাসের ২ মার্চ থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা, অনেকের টিউশন, পার্ট-টাইম জব এসবের কারণে যেতে হচ্ছে দেরিতে। তবে বেশ আগেভাগেই অনেকেই চলে গেছেন বাড়িতে।
দেখা যায়, পুরো ক্যম্পাসজুড়ে ঈদের আমেজ স্পষ্ট। খেলার মাঠ, পুকুর পাড়, রাজ্জাক মামার দোকানে শিক্ষার্থীদের যেখানে চায়ের আড্ডা জমে উঠত, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা।
ঈদ মানেই পরিবার, প্রিয়জন, আর শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে নতুন করে মিশে যাওয়া। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈদের ছুটি একদিকে যেমন আনন্দ বয়ে আনে, তেমনই ক্যাম্পাস থেকে বিদায়ে একধরনের বিষণ্নতাও থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন বর্ষের ক্লাস-পরীক্ষার চাপে অনেকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি অনেকেরই। তাই ঈদ মানেই তাদের কাছে শুধুই আনন্দ নয়, বরং স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিক বাড়ি যাননি প্রায় ছয় মাস। তিনি বলেন, পরীক্ষা ও টিউশন থাকার কারণে বাড়িতে যাওয়া হয়নি ছয় মাসেরও বেশি হবে। পরিবারের সাথে ঈদ উপভোগ করতে বাড়িতে যাচ্ছি। বড় ভাই-ভাবী, বড় বোন সবাই একসাথে হতে পারবো ভাবতেই একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। তবে প্রিয় ক্যাম্পাসকে অনেক মিস করবো।
প্রিয়জনদের সাথে ঈদ কাটাতে ব্যাগপত্র গুছিয়ে হল ছেড়ে যাচ্ছিলেন জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর বাড়িতে যাচ্ছি ভাবতে মনটা খুশিতে ভরে উঠছে। অনেকদিন পর প্রিয় বন্ধু-বান্ধব, পরিবার সবার সাথে দেখা হবে। আমরা শহরের ইট-পাথরে আবদ্ধ হয়ে গেছি, মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপ, ক্লাস-পরীক্ষা, টিউশন আর সাথে শহরের জ্যাম সব ছেড়ে গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশ পাবো এর থেকে আর সুন্দর কিছু নেই।
সবাই ঈদ করতে বাড়িতে গেলেও গত তিন ঈদ হলে থেকেই করছেন ঢাকা কলেজের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাসিন বিল্লাহ মাহাদী। তিনি বলেন, বেসরকারি এক কোম্পানিতে চাকরি করি, তাই তিন ঈদ বাড়িতে যেতে পারেনি। এজন্য ভেবেছি ঈদের পর চাকরি ছেড়ে দেবো। বছরে দুটি ঈদ, সেটাও যদি না করতে পারি। আমরা মধ্যবিত্ত, তাই খারাপ লাগে, তবে নিজের খরচ নিজেকেই জোগাড় করতে হয় সেজন্য সব ভেবে মেনে নিই।
আগামী ৫ এপ্রিল শেষ হবে ঈদের ছুটি। আবারও মুখরিত হবে কলেজের হলের আঙিনা থেকে শুরু করে ক্লাস রুম, বিজয় চত্বর, খেলার মাঠ, পুকুর পাড়, রাজ্জাক মামার চায়ের দোকান।
রাকিব